অবশেষে দেখা মিললো চাতক বৃষ্টির, নগর জুড়ে স্বস্তি

সর্বশেষ আপডেটঃ
34
0
ছবি : ভারী বর্ষন না হলেও বৃষ্টির মুখ দেখতে পেয়ে নগরবাসীর জনজীবনে স্বস্তি নেমে এসেছে।

ঊষার আলো প্রতিবেদক : গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহ, কাঠফাটা রোদ আর অসহনীয় গরমে অতিষ্ট করে তুলেছে সর্বমহলকে। কয়েক সপ্তাহের এই টানা অস্বস্তিকর অগ্নিদহনে যেমন প্রানহীন হয়ে ওঠেছে চারপাশের প্রকৃতি ঠিক অপর দিকে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল হয়ে ওঠেছে অস্বাভাবিকআর অস্বস্তিকর। ঘরে বাইরে কোথাও যেন স্বস্তি নেই। দিনে মাথার উপর তপ্ত সূর্য, আর রাতের বেলায় ঘরের ভেতর গরম বাতাসের ভ্যাপসা অনুভূতি, স্বস্তি নেই রাতে বা দিনে। এমন অস্বস্তিকর তীব্র তাপপ্রবাহ হতে সাময়িক মুক্তি পেতে কাংক্ষিত বৃষ্টি বা শীতল হাওয়ার ছোঁয়া পেতে সকল শ্রেনীর মানুষ ব্যাকুলহ হয়ে পড়েছে। অবশেষে দীর্ঘদিনের অপ্রত্যাশিত ভারী বর্ষন না হলেও বৃষ্টির মুখ দেখতে পেয়ে নগরবাসীর জনজীবনে বেশ স্বস্তি নেমে এসেছে। নগরীর ইকবাল নগরের বাসিন্দা মোঃ রায়হান মোল্লা জানান, ৩ মে রাত সাড়ে ১০টার দিক হতে ঝড়োয়া বাতাস বইতে শুরু করে। আকাশ বেশ মেঘলা ছিল। এরপর শুরু হয় বৃষ্টি । মঙ্গলবার (৫ মে) মাঝ রাত হতে শুরু হয় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। ভোররাতে একই ভাবে বৃষ্টি বইতে থাকে। ৫ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বেশ জোড়ে সোড়ে বৃষ্টি নামে, যা ছিল ভিজে যাওয়ার মতো। সরেজমিনে, এই স্বস্তির বৃষ্টিতে তাপদাহের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে জনজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া নেমে এসেছে। বৃষ্টির কারণে হঠাৎ কাটফাটা রৌদ্রের পরিবর্তের নগরী জুড়ে সর্বত্র ছাতা নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে ঈদ মুখি বাজারে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ে। মহাসড়কে যান চলাচল ছিল অনেকটাই কম। তবে বর্ষায় রিক্সা চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো। মৌসুমের প্রথম বর্ষার অনেকেই নিজের একটু ভিজিয়ে নিয়েছে। সোনাডাঙ্গা আবাসিকের বাসিন্দা ঝুমুর আক্তার বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বৃষ্টির ছোঁয়া অনেকটাই চালক পাখির মতো, স্বস্তি নেমে এসেছে জীবনে। টানা কয়েক দিনের গরমে জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও ভারী বর্ষনের ছোঁয়া লাগেনি, তবুও নেই মার চেয়ে কানা মা অনেক ভালো। তবে এখন বরো ধান ঘরে তোলার সময়। অনেকেরই ধান এখনো মাঠে রয়েছে। আড়ংঘাটা বাইপাস সড়কের পাশের কৃষক মোস্তফা জানান, আমার মাঠে ধান কাটা রয়েছে। এই বৃষ্টিতে বেশ ক্ষতি হয়ে গেল। এ ব্যাপারে খুলনা আঞ্চলিক আওহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ এ জানান, বর্তমানে বৃষ্টির কারণে মৃদু থেকে মাঝারী ধরণের তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়েছে। মৃদু থেকে মাঝারি কালবৈশাখির মতো ঝড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পরিমান ২ মিঃ মিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২ হতে ৩ দিন ধরে ঝড়ো হওয়াসহ বজ্র বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবণা রয়েছে। তবে আপাতত কোন ভারী বর্ষনের কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানান এ কর্মকর্তা।

(ঊষার আলো-আরএম)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ