ঈদের পূর্বে বদলী-দৈনিকভিত্তিকসহ শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ ও মিল চালুর দাবিতে স্মারকলিপি

সর্বশেষ আপডেটঃ
32
0
ছবি : শ্রমিকের সমুদয় বকেয়া পরিশোধ ও অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় মিল চালুর দাবিতে বুধবার সকালে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর পরিচালকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান।

ঊষার আলো প্রতিবেদক : ঈদের পূর্বে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের বদলী-দৈনিকভিত্তিক ও নাম ভুলের সমস্যা দ্রুত সমাধানপূর্বক সকল শ্রমিকের সমুদয় বকেয়া পরিশোধ ও অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় মিল চালুর দাবিতে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ-এর পক্ষ থেকে ৫ মে বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তর পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২০২০ সালের ২রা জুলাই সরকার ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেয়। পাটকল বন্ধের এই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ শুরু থেকেই আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থায়ী, বদলী ও দৈনিকভিত্তিক প্রায় ৫৭ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ওপর চরম আঘাত হানে। তাদের জীবন-জীবিকা এখন ঘোর অন্ধকারে নিপতিত। উপরন্তু বকেয়া পাওনা প্রদানের ক্ষেত্রেও শ্রমিকেরা সরকারের প্রতারণামূলক ফাঁদে পড়ছেন। অথচ এই বকেয়া পাওনা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সরকারের দয়া বা করুণা নয়। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কঠোর পরিশ্রম করেছে, সেই শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিকই এখন তাদের পাওনা। ১৮ হাজার ২ শত বদলী শ্রমিকের বকেয়া পাওনা অর্থের কোন খবর নেই। ৭ হাজার দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিক অবগত নয়, তারা আদৌ অর্থ পাবেন কি না! মিলের কলোনীতে বসবাসকৃত শ্রমিকদের কোন অর্থ পরিশোধ না করেই জোরপূর্বক তাদের কলোনী থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। শঙ্কা, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কলোনী থেকে উচ্ছেদ হওয়া শ্রমিকেরা। আজ যাদের জন্য পাটকলে লোকসান হয়েছে সেসব মন্ত্রী-আমলা ও দুর্নীতিবাজ বিজেএমসি’র কর্মকর্তারা চাকরীতে বহাল তবিয়তে আছেন। মাস গেলে সময় মত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। বর্তমানে বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় দফায় লকডাউন চলছে। চলমান এই লকডাউনের সময় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের বদলী-দৈনিকভিত্তিক নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা নিদারুন অর্থসংকটে ভুগছে। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা ঈদের পূর্বে বকেয়া সঠিক হিসাব অনুযায়ী এককালীন পরিশোধ এবং নামের ভুল দ্রুত সংশোধনপূর্বক কয়েক হাজার স্থায়ী পাটকল শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। ঈদ উল ফিতর সমাগত। ১ সপ্তাহ পরই ঈদ পালিত হবে। পাটকল শ্রমিকেরা বিগত ১ বছর ধরে অবর্ণনীয় অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছে। ঘরে খাবার নেই। সন্তানদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কর্মহীন শ্রমিক পরিবারের বয়স্ক পিতা-মাতা-সন্তান এমন কি নিজে হৃদরোগ, স্ট্রোক, হাঁপানী, এ্যাজমা, কিডনী রোগে আক্রান্ত হলেও ওষুধ কেনার ন্যূনতম সামর্থ নেই। করোনার ভয়াবহতায় বিকল্প কর্মসংস্থান নেই। এক কথায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সঙ্গত কারণে সরকারের নিকট আমাদের দাবি গুলো হচ্ছে, ঈদের পূর্বে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের বদলী, দৈনিকভিত্তিক ও নাম ভুলের সমস্যা দ্রুত সমাধানপূর্বক শ্রমিকদের বকেয়া প্রদান করতে হবে। (২) অবিলম্বে পাটকল চালু ও আধুনিকায়ন করতে হবে। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহবায়ক এড. কুদরত-ই-খুদা, সিনিয়র যুগ্ম আহবয়ক এড. আ ফ ম মহসীন, সদস্য সচিব ও সিপিবি কেন্দ্রীয় সদস্য এস এ রশীদ, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, যুগ্ম আহবায়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু, যুগ্ম আহবায়ক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) খুলনা জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক খান, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ খুলনা জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য কাজী দেলোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি আব্দুল করিম, বদলী শ্রমিকনেতা আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার প্রমুখ।

(ঊষার আলো-আরএম)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ