দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা আবারও দেশকে অস্থির করে তোলার ষড়যন্ত্রমূলক কথা বলেছেন। টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক এমপি পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরীর সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড এসেছে হাতে। এই ফোনালাপে শেখ হাসিনা তার দলের কার্যালয় উদ্ধারের জন্য নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এমনকি উসকানি দিয়ে বলেছেন, মাঠে নামার সময় এক গ্রুপ সামনে, আরেক গ্রুপকে পেছনে থাকতে হবে। কেউ হামলা করতে এলে তাদের দিতে হবে চরম শিক্ষা।
সম্প্রতিকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার কথাবার্তার প্রতিবাদ করা শুরু করেছেন। তারা তাদের নেত্রীর প্রতি ক্ষুব্ধও বটে। তাদের অনেকেই বলছেন, তিনি কীভাবে দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে বিপদে ফেলে রেখে পালিয়ে যেতে পারলেন! তারা আরও বলছেন, শেখ হাসিনা ও তার আশপাশে থাকা হাইব্রিড নেতাদের ভুল ও লোভের কারণে আওয়ামী লীগের আজ এই দশা। এরা প্রচুর টাকা লুটপাট করে এখন বিদেশে আরাম-আয়েশে জীবন কাটাচ্ছেন আর দলের নিরীহ কর্মীরা পড়েছেন বিপদে। তাদের ভাষ্য, শেখ হাসিনার কথায় তারা আর নাচবেন না। বরং তারা আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না অথবা রাখলে কীভাবে রাখবেন, তা ভেবে দেখবেন।
শেখ হাসিনার বর্তমানে ভারতে অবস্থান তার কৃতকর্মের ফল বৈকি। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি যা করেছেন, এর মূল্য দিতে হচ্ছে তাকে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, তার মুখে অনুতাপ বা অনুশোচনার কথাও শোনা যায় না। বরং ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ লক্ষ্যে মাঝেমধ্যেই তিনি তার দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এটা স্পষ্ট যে, সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের দুঃশাসন আর দেখতে চায় না। তারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। তারা এমন আশঙ্কাও করছে, আওয়ামী লীগ কোনোক্রমে আবারও ক্ষমতা নিতে পারলে দেশ ছারখার হয়ে যাবে। প্রতিশোধপরায়ণতার আগুন জ্বলবে দেশজুড়ে। শুরু হবে আবারও লুটপাটের ও বিরোধী মত দমনের নিষ্ঠুর অভিযান। সুতরাং শেখ হাসিনার এখন উচিত বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। দ্বিতীয়ত, তিনি ও তার দল যা করেছেন, সেজন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারের শত চেষ্টা করেও কোনো লাভ হবে না।
ঊষার আলো-এসএ