UsharAlo logo
, |

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত—বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

ঊষার আলো ডেস্ক
ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ ৯:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার আলোকে আগামীর একটি বৈষম্যহীন, নৈতিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণভাবে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা হবে এবং স্কুল বা মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে কোনো দলীয় ব্যক্তির স্থান থাকবে না।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে খুলনার খান জাহান আলী থানার আস-সুন্নাহ মডেল মাদ্রাসার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান ৫ আগস্টের দুই বছর আগেই রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করেছিলেন। এটি কোনো তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্র কাঠামোকে মেরামতের সুস্পষ্ট রূপরেখা।” তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা, সততা ও মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এলাকার যোগ্য, গণ্যমান্য ও শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে।

শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে কোনো জাতি এগোতে পারে না। অতীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অযোগ্য ব্যক্তিদের বসানোর কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেই সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করা হবে।”

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রতিটি স্কুল ও মাদ্রাসায় একজন করে আলেম বা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা, শালীনতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠে।” তিনি বলেন, নৈতিক শিক্ষার অভাবই সমাজে অপরাধ, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ।

শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রম প্রসঙ্গে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই অন্তত তিনটি ভাষায় পারদর্শী করে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সিলেবাস থেকে ভিনদেশি অপসংস্কৃতি ও ইসলামবিরোধী ভাবধারার বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী যদি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ না থাকে, তাহলে জাতির ভবিষ্যৎও নিরাপদ নয়।”

বিএনপির ঘোষিত জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সবার জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য বিনা সুদে ঋণ, উন্নত বীজ ও সার সুবিধাসহ ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু করা হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাস্তব পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বেকারত্ব ও মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যুবক ও ছাত্রদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে মাদকের অভিশাপ অনেকটাই দূর হবে। মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশ প্রশাসন দিয়ে হবে না; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।”

আস-সুন্নাহ মডেল মাদ্রাসা আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার সভাপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ মো. শরিফুল ইসলাম, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা আইয়ুব আলী ও মাওলানা হাবিবুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মীর কায়ছেদ আলী, সাবেক চেয়ারম্যান; আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক, খানজাহান আলী থানা বিএনপি; মোল্লা সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক, খানজাহান আলী থানা বিএনপি, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং আস-সুন্নাহ মডেল মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।

ঊআ-মোহন চৌধুরী