গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেছেন, ভোটগ্রহণ চলাকালে বড় ধরনের অনিয়ম চোখে না পড়লেও ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রচারের মধ্যবর্তী সময়েই “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং” করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে হোটেল গ্রান্ড প্লাসিড-এ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা জেলা শাখার আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা এমরান হুসাইন-এর সভাপতিত্বে ও মুন্সী মিজানুর রহমান-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কৃষ্ণ নন্দী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন ও যুগ্ম মহাসচিব হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা-এর সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাব-এর সাবেক সভাপতি এস এম হাবিব ও সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ভোটের দিন পরিবেশ উৎসবমুখর ছিল এবং মানুষ বাধাহীনভাবে ভোট দিয়েছে। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার আগে যে রহস্যময় বিরতি তৈরি হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন।”
তিনি দাবি করেন, রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আসন থেকে বিরোধী জোটের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার খবর আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ফলাফল প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, “এই সময়টাতেই কী ঘটেছে, সেটার জবাব সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন কেউই স্পষ্ট করে দিতে পারেনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অল্প ভোটের ব্যবধানে থাকা বেশ কয়েকটি আসনে ওপর থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আদালত ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি আসনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। অনেক মানুষ আছেন যারা কখনো জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না—তারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর যে সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে তাঁর দল সরকারকে ভালো কাজে সহযোগিতা করবে, কিন্তু অন্যায় দেখলে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই প্রতিবাদ জানাবে।
রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, তাকওয়া অর্জন ও কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্যে খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে “ইঞ্জিনিয়ারিং” করা হয়েছে—তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ঊআ-মোচৌ
