UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরবন ঘিরে ইকো-রিসোর্টে কর্মসংস্থান, বন্ধের নির্দেশে শঙ্কা

Mohon Chowdhury
অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৯:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

খুলনা ব্যুরো : বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ঘিরে খুলনার দাকোপে গড়ে ওঠা পরিবেশবান্ধব ইকো-রিসোর্টগুলো স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশে ১৫টি রিসোর্ট বন্ধের আশঙ্কায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব রিসোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব।

দাকোপ উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ইকো-রিসোর্ট ঘিরে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত জটিলতায় এ খাত প্রত্যাশিত বিকাশের পথে বাধার মুখে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমির, ডলফিন ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। পরিবেশবিদদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব পর্যটন দেশের অর্থনীতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বনের সংবেদনশীল পরিবেশ রক্ষায় পর্যটন পরিচালনায় পরিবেশগত বিধিনিষেধ ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি।

ইরাবতী ইকো-রিসোর্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের ব্যবস্থাপক পলাশ মণ্ডল বলেন, আগে স্থানীয় অনেক মানুষ জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে সুন্দরবনের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এলাকায় ইকো-রিসোর্ট গড়ে ওঠায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে সুন্দরবনের সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা কমার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২১ সাল থেকে দাকোপের কৈলাশগঞ্জ ও বাণীশান্তা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে সুন্দরবনের বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে এসব ইকো-রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। রিসোর্টগুলোতে ব্যবস্থাপকসহ বিভিন্ন পদে স্থানীয়দের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রিসোর্টে ৮ থেকে ২০ জন পর্যন্ত কর্মী কাজ করেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব রিসোর্টকে কেন্দ্র করে এলাকার প্রায় দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় সহায়তা দিতে ছোট ছোট পাঠশালা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

রিসোর্ট ওনার অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (রোয়াস) সভাপতি ইমন ইসলাম বলেন, রিসোর্ট বন্ধের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি তাঁরা সরাসরি পাননি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রিসোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এসব রিসোর্টে অবস্থান করে পর্যটকেরা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যটকদের খাবার সরবরাহ, নৌযান, মাঝি ও সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রেও গ্রামের মানুষ যুক্ত রয়েছেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা কমছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। তবে সুন্দরবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা না থাকলে এ পর্যটন শিল্প এবং সুন্দরবনের পরিবেশ—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, পরিবেশবিদ ও পর্যটন উদ্যোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এতে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সম্ভাবনাও কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

ঊআ- মোচৌ