লঘুচাপ কেটে নগরজুড়ে শীতের ছোয়া

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ আশিকুর রহমান : অগ্রহায়ণে একটি দিন অতিবাহিত হবে সেই সাথে রাতের তাপমাত্রা কমতে থাকবে, ক্রমশ বাড়ছে শীতের তীব্রতা এমনই এমনই আভাস দিয়েছিল খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্র।
গত ৬ ডিসেম্বর আবহাওয়া অফিস জানায়, সমুদ্রে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালন মেঘমালা সৃষ্টি অব্যহত ছিল এবং বায়ূর তারতম্যের আধিক্যে বিরাজ করছিল। এরই প্রভাবে অস্থায়ী দমকা ঝড়ো হাওয়া সহ বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত ছিল। একই সাথে সূত্র জানায়, লঘুচাপ কেটে যাওয়া পর রাতের তাপমাত্রা কমবে আর শীতের তীব্রতা বাড়বে। এই তথ্যনুসারে লঘুচাপ কাটতে না কাটতে ইতিমধ্যেই নগরীর সর্বত্র জুড়ে হিমেল হাওয়া আর শীতের তীব্রতা অনুভব করতে শুরু করেছে নগরবাসী।

খুলনার ডাকবাংলা, শিববাড়ী, নিউমার্কেট, সোনাডাঙ্গা, শান্তিধাম, রয়েলমোড়, পিকচার প্যালেস, ময়লাপোতা, নিরালা, গল্লামারী , রুপসা, খালিপুর, দৌলতপুর, বৈকালী ফুলবাড়ী, শিরোমনি সহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ সড়কে, বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লায় মোটা শীত পোশাকে চলাচল করতে দেখা গেছে নগরবাসীকে। লঘুচাপের আগে যেখানে হালকা থেকে মাঝারী শীতের পোশাক পরে নগরবাসী চলাচল করতে দেখা গেছে, লঘুচাপের পর তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে সর্বত্র জুড়ে। শীত তীব্রতায় পড়ে অধিকাংশই সন্ধ্যার পর শীতের হাত থেকে রক্ষা মেলাতে জ্যাকেট, ব্লেজার, সয়েটার, শরীরে মোড়ানো চাদর, গলায় মাফলার, মাথায় টুপি দিয়ে চলাচল করতে শুরু করেছে নগরবাসী। বিশেষ করে শিশু আর বয়স্করা শীত হতে বাচতে গায়ে জড়িয়েছে মোটা পোশাক। তাছাড়া বাইরেও বেশ হিমেল হাওয়া বইছে।

পাশাপাশি তীব্র শীত হতে পরিত্রাণ পেতে নগরীর আধুনিক বিপনীকেন্দ্র গুলো সহ রেলওয়ে মার্কেট, ডাকবাংলা পুরাতন শীতের মার্কেট, খালিশপুর সন্ধ্যা বাজার, দৌলতপুর রেললাইনের পশ্চিমপাশে পোশাকে দোকান, ফুলবাড়ী গেট পুরাতন কাপড়ের দোকান সমূহে ভারী পোশার কিনতে বিগত দিনগুলোর তুলনায় লঘুচাপের পর সন্ধ্যায় এ সকল শীতে পাশাকের দোকানগুলোতে বেশ ভীড় পরিলক্ষিত। বিশেষ করে শিশু আর বয়স্কদের পোশাকের চাহিদা বেশ বেড়েছে। পাশাপাশি তেপ-তোষক আর কোম্বলে দোকানগুলোতেও ভিড় হয়েছে।

পোশাক ব্যবসায়ী হিরু মিয়া জানান, শীত শুরুতেই হালকা বা মাঝারী শীতের পোশাকের বেশ চাহিদা ছিল। তবে গেল লঘুচাপের পর রাতে, ভোরে ও সন্ধ্যায় পর বাইরে প্রচুর ঠান্ডা। শীতের তীব্রতা বাড়ার কারনে হালকা মাঝারী পোশাক বিক্রির পরিবর্তে বাজারে আসা শীত পোশাকের ক্রেতারা এখন ভারী পোশাক কিনতে আগ্রহী। যে কারণে কদর বেড়েছে শীত পোশাকের।

মাহেন্দ্র চালক টুটুল জানান, দু’দিন ধরে টানা বর্ষণে লোকজন ঘর হতে কম বের হয়েছে। যে কারণে একবেলা করে গাড়ি চালিয়েছি। বর্ষার মধ্যে ভিজে বেশ ঠান্ডা লেগেছে, আর এখন বর্ষা শেষ শীত নামতে শুরু করেছে। মোটা কাপড় গায়ে না দিয়ে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। নইলে বাতাস হতে আর রক্ষা মিলছেনা। যাত্রীদেরও একই রুপ, মোটা শীতের পোশাক গায়ে লাগিয়ে, রীতিমত কান-গলা ঢেকে গাড়ি উঠছে।

মোটর সাইকেল আরোহী সোহান জানান, বাইক চালাতে বাইরে প্রচুর ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। জ্যাকেট, হেলমেট , ছাড়া গাড়ী চালানো সম্ভাব হচ্ছেনা। এ বিষয়ে খুলনা আবহাওয়া অফিসের আবহওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, লঘুচাপ কেটে যাওয়া পর রাতের তাপমাত্রা কমবে আর শীতের তীব্রতা বাড়বে। মঙ্গলবার (০৭ ডিসেম্বর) খুলনার সর্ব্বোচ তাপমাত্রা ছিল ২৪.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস ও সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ২১.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।