মাসিক টাকা না পেয়ে জরুরি খাদ্য পরিবহণের গাড়িতে মামলা দিল সার্জেন্ট

সর্বশেষ আপডেটঃ
110
0

ঊষার আলো রিপোর্ট : লকডাউনে খাদ্য সরবরাহ করার অনুমতি থাকলেও নগরীর গল্লামারী মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সাঈদ এর বিরুদ্ধে শিশুদের খাবার দুধ ভর্তি পিকআপ আটকে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পিকআপ ড্রাইভার এর কাছে চেয়েছেন অর্থ। সেইসাথে ভিটালাক ডেইরী এন্ড ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর খুলনাঞ্চলের বিক্রয় প্রতিনিধির সাথে করেছেন অসৌজন্যমূলক আচরণ। অসময়ে প্রবেশের অভিযোগে মামলাও দিয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী ভিটালাক ডেইরী এন্ড ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর খুলনা অঞ্চলের প্রতিনিধি মোঃ রাজিব হোসেন খুলনা মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক বরাবর অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত গ্রহণের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার। অভিযুক্ত সার্জেন্ট তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সকাল নয়টায় ভিটালাক ডেইরী এন্ড ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর একটি পিকআপ গল্লামারী মোড় দিয়ে শহরে প্রবেশ এর সময় সার্জেন্ট সাঈদ তা রোধ করেন। গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাইলে তাকে গাড়ির সকল কাগজপত্র দেখান চালক। কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও লকডাউনের মধ্যে পণ্য পরিবহন করছেন কেন এই অভিযোগ করে তার কাছে অর্থ দাবি করে জিজ্ঞাসা করেন মাসিক টাকা কার কাছে দাও। তখন চালক বলেন, আমার কোম্পানির উর্ধ্বতনরা জানেন, এ ব্যাপারে আমি জানিনা। তখন সার্জেন্ট উর্ধ্বতনদের ডাকার নির্দেশ দেন।
ড্রাইভারের ফোন পেয়ে কোম্পানির খুলনাঞ্চলের বিক্রয় প্রতিনিধি মোঃ রাজিব হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি দেখেন তাদের পিকআপটি গল্লামারী রয়েছে। সার্জেন্ট সাঈদ জিরোপয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় সার্জেন্ট সাঈদ এর নিকট জিরোপয়েন্টে যেয়ে দেখা করলে তিনি মোঃ রাজিব এর সাথে গালাগালি দিয়ে কথা বলেন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অথচ গত দুই দিন আগে সরকারের দেয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে খাদ্য পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে না।
এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, আমরা রাজিব হোসেনের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কানাই লাল বিষয়টি তদন্ত করবেন। আর যে মামলাটি দেয়া হয়েছে গাড়িটি ঢাকায় গিয়েছে সেখান থেকে আসার পর এ ব্যাপারে মামলা মওকুফের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে সার্জেন্ট সাঈদকে ফোন দেয়া হলে, তিনি সরাসারি এ প্রতিবেদকের কাছে এসে দেখা করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমরা মানুষের সেবায় থাকি। কিন্তু সব সময় মেজাজ ঠিক থাকে না। তবে আমি অভিযুক্তের সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করিনি। আর মাসিক টাকার ব্যাপারে যে অভিযোগ সেটি মিথ্যা, বলেন তিনি।
এ বিষয়ে নাগরিক নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি একটি ছোট্ট ঘটনা। কিন্তু এমন ঘটনা নগরীতে প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমরা সার্জেন্টদের দেখি মোটরসাইকেল ধরতে তারা তৎপর। অথচ সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নগরীতে দাপিয়ে বেড়ায় ট্রাক। অবৈধ লড়িতে করে বহন করা হচ্ছে ইট ও বালি। যত্রতত্র পার্কিং এর বিষয়টি নাইবা বললাম। অভিজাত হোটেল থেকে বড় সরকারি অফিস, সকল অফিসের সামনেই রাস্তায় পার্কিং এখন নিয়মিত ব্যাপার।

(ঊষার আলো-এমএনএস)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ