ঊষার আলো রিপোর্ট : ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আদর্শগ্রাম এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ। ভয়ে পালিয়েছেন ঠিকাদারের লোকজন।
স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে চাঁদার দাবিতে নির্মাণাধীন সোনাগাজী ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও কয়েকজন শ্রমিককে আহত করার অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। তাদের দাবি, চাঁদাবাজদের অব্যাহত হুমকির কারণে এখন বন্ধ রয়েছে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ।
যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, সরকারের উন্নয়নকাজে বিঘ্ন ঘটাতে কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারদলীয় কেউ ওই প্রকল্পের কাজে বাধা বা হামলা করেনি। যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ সত্য হয়, তা হলে তাদের অভিযোগ গোপন থাকবে কেন? রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কেউ কারও বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ দিলে তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে একসময় রহস্য উন্মোচিত হবে।
থানাসূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ রাতে উপজেলার আদর্শগ্রাম এলাকায় নির্মাণাধীণ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটে। গত ২৮ মার্চ জিওটেক ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর উদ্দিন বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে জানাজানি হয়। প্রকল্পের কর্মকর্তারা হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া জনপ্রতিনিধির নাম জানলেও প্রকাশ করতে রাজি হননি।
এদিকে বন্ধ রাখা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা চেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (ইজিসিবি) পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির সচিব কাজী নজরুল ইসলাম ফেনীর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
জিওটেক ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রকৌশলী একরাম হোসেন ও ব্যবস্থাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি ও তার লোকজন দফায় দফায় মোবাইলে এবং প্রকল্প এলাকায় গিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহের কাজ পেতে চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া হয়নি। এর পর তাদের সঙ্গে সমঝোতা না করে কাজ করা যাবে না বলে প্রকল্প এলাকায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ২৫ মার্চ রাতে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তারা প্রকল্পের শ্রমিক মো. আতিকুল ইসলাম, একরামুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, একরামুল হোসেন, আলি আজগরকে পিটিয়ে আহত করে এবং নগদ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ভোর হওয়ার আগেই শ্রমিকদের চলে যেতে বলে। হত্যার হুমকি পেয়ে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে রাতেই পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২০-২২ জনের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায়ও শ্রমিক আলি আজগর থানায় আরেকটি জিডি করেন।
কাজ চালু রাখতে গত ৩০ মার্চ ফেনী-৩ আসনের সাংসদ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী স্থানীয়দের নিয়ে এক মতবিনিময়সভাও করেন। সভায় কড়া ভাষায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তব্যও দিয়েছেন। কিন্তু তার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ বন্ধ রেখেছেন।
এ ঘটনায় প্রকল্পের পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, হামলার সঙ্গে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি জড়িত বলে শুনেছি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ খালেদ দাইয়্যান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঊষার আলো-এসএ
