বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ ১৫ জেলায় অবৈধ দুই লাখ লিটার ভোজ্য তেল

সর্বশেষ আপডেটঃ
বাগেরহাটে উদ্ধার হওয়া তেল = সংগৃহিত

ঊষার আলো রিপোর্ট : ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি থাকছে না। দাম বৃদ্ধির পরও সংকট কাটছে না। বাজারে চাহিদা মতো তেল মিলছে না। এমন অবস্থায় দেশের মাত্র ১৫ জেলায় অভিযানে দুই লাখ লিটার তেল উদ্ধার হয়েছে।
বুধবার ( ১১ মে) যেসব জেলায় অভিযান চালানো হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৭ লিটার তেল জব্দ করা হয় কেবল পাবনাতেই। জেলার সুজানগর, বেড়া ও সাঁথিয়ার বিভিন্ন গুদামে অভিযান চালিয়ে এই তেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে তেল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে ১৫ জেলায় পাওয়া গেছে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৮১ লিটার তেল।

জেলায় জেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানে এসব উদ্ধার চলছে। অধিদপ্তর বুধবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই অভিযান চালায়। এর আগে মঙ্গলবার দিনও সাত জেলায় ১ লাখ ৬৫ হাজার লিটার তেল খুঁজে পায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বাগেরহাট শহরের তেলপট্টির শ্রী ভাণ্ডারের গুদাম থেকে তিন হাজার ৮০০ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার হয়েছে। বুধবার (১১ মে) জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ ইমরানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে সয়াবিন মজুত করে রাখার অপরাধে শ্রী ভাণ্ডারের মালিক ব্যবসায়ী মদন সাহাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযোগে বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকার মুদি ব্যবসায়ী সুভাস পাল ও রবীন পালকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

সাতক্ষীরা সদরের সাকার মোড়ের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও সুলতানপুর বড়বাজারে অভিযান চালিয়ে পাওয়া গেছে ৭৫০ লিটার সয়াবিন তেল।
দুপুরে ঝালকাঠি শহরের এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে জব্দ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৭৪৬ লিটার সয়াবিন তেল। শহরের আড়তদারপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই তেল জব্দ করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঝালকাঠির সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস।
তিনি জানান, অবৈধভাবে তেল মজুতের দায়ে ব্যবসায়ী বিকাশ কুণ্ডুকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের পাবনা শাখার সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে সুজানগর উপজেলার পৌর শহরে সিনেমা হলের কাছে ঘোষ স্টোর থেকে পাওয়া যায় ১ হাজার ৪৩৫ লিটার খোলা সয়াবিন তেল ও ১ হাজার ৭০২ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল। গেল ঈদের আগে সেগুলো অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় দোকানমালিক দুলাল ঘোষকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সন্ধ্যায় বেড়ার কাশীনাথপুর এলাকায় ব্যবসায়ী সুনীল কুমার ও মীর মো. আবুল খায়েরের গুদামে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দল। এ সময় দুই গুদামে পাওয়া যায় ৩০ হাজার লিটার করে ৬০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল। ব্যবসায়ী সুনীল কুমারকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও আবুল খায়েরকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া কাশিনাথপুরের লক্ষ্মণ কুমার সাহার গুদামে পাওয়া গেছে ১৫ হাজার লিটার তেল। গুদামমালিককে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আর সবশেষ রাতে পাবনা শহরের দিলালপুর এলাকায় উত্তম কুন্ডুর গোডাউন থেকে ৪৬ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসনাত।

গাজীপুরের টঙ্গী বাজারে বিকেলে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৪৮ লিটার খোলা সয়াবিন তেল ও পাম তেল। নীলফামারীর ডিমলা ও বগুড়ার কাহালুতে ৭ হাজার লিটার করে ১৪ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়েছে। ৫ হাজার লিটার করে ভোজ্যতেল মজুত করে জরিমানা গুনেছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও বাগেরহাট সদরের পাঁচ ব্যবসায়ী।
চট্টগ্রামের কর্নেলহাটের একটি দোকানে ৪ হাজার লিটার খোলা তেল ও আরেকটিতে ১৩০ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া গেছে। দুই দোকানকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
দুপুরে সিলেট নগরের কাজিটুলা এলাকার একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে পাওয়া গেছে সাড়ে ৪ হাজার লিটার সয়াবিন তেল। ৩ হাজার ৭০০ লিটার তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার দায়ে নেত্রকোণার কলমাকান্দার এক ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দুপুরে শরীয়তপুরের পালং বাজারে অভিযান চালিয়ে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মজুত করা ২ হাজার ২৫৮ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল জব্দ করে অধিদপ্তর।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় জব্দ করা হয়েছে ২ হাজার লিটার করে তেল। ফরিদপুরে শহরের দুই দোকানে অভিযানে ৭১২ লিটার তেল পেয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ঝিটকা বাজারে অভিযান চালিয়ে পাওয়া যায় প্রায় ৪০০ লিটার তেল।