দৌলতপুর থানায় অর্ধশতাধীক ইজিবাইক ও অটোরিক্সা আটক

সর্বশেষ আপডেটঃ
18
0

ঊষার আলো প্রতিবেদক : করোনা সংক্রমন রোধে সরকার ঘোষিত ১৪ এপ্রিল হতে আটদিনে কঠোর লকডাউন চলছে। প্রতিদিনই অতীতের রেকর্ড ভেঙ্গে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমন রোধে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে লকডাউনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানের মুখে থাকা সত্ত্বেও সরকারী প্রজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত বাদেও যে সব যানবহন চলাচল বন্ধ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেই যানবহনগুলো সমগ্র শহর দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর মধ্য বেশি নজরে পড়ছে দৌলতপুরে ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, সিএজি আর অটোরিক্সা-ভ্যান।
প্রজ্ঞাপনে আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন-কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণবিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা দেয়া, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।
তবে সরকারী এ বিধিনিষেধ অমান্য করে দৌলতপুরে ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, সিএনজিসহ অটোরিক্সা-ভ্যান ইচ্ছা স্বাধীন চলাচলের দরুন এই যান চলাচল রোধে দৌলতপুর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইতিমধ্যেই থানায় একাধিক ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, অটোরিক্সা-ভ্যান আটক করেছে। লকডাউনের দ্বিতীয় দিন হতে শুরু করে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সর্বশেষ পুলিশের তথ্যনুসারে অর্ধশতাধীকের বেশি ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, অটোরিক্সা-ভ্যান আটক রাখা হয়েছে দৌলতপুর থানায়।
এ সকল গাড়ীর চালক বা মালিকেরা একাাধিক বার থানার গাড়ী ছাড়াবার ধরনা ধরলেও মিলছেনা কোন আশানুরূপ সাড়া। পুলিশের সরাসরি বক্তব্য লকডাউন শেষে স্ব-স্ব মালিকের নিকট এ সকল যানবহনগুলো হস্তান্তর করা হবে।
মহেশ্বরপাশা বাসিন্দা আটক অটোরিক্সার মালিক নাজমা গত ১৫ এপ্রিল রাত হতেই প্রতিদিন থানায় আসছেন তার রিক্সাটি ফিরে পাওয়ার জন্য। তিনি বলেন, আমার এই গাড়ীর আয়ের পথদিয়ে আমার তিনটি বাচ্চার লেখাপড়াসহ সংসার খরচ চলে। আমার গাড়িটি পুলিশ নিয়ে এসেছে। আমি অনেক অনুরোধ করে তাদেরকে বলেছি আমি যাত্রী বহনের জন্য গাড়ী আর বের করবো না। তবুও গাড়ি ছাড়েনি, বলেছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া দিতে পারবে না। তবে তিনি ইচ্ছা করলে ব্যাটারী খুলে নিয়ে যেতে পারেন। এমন একাধিক ব্যক্তি জুবায়ের, ইউসুফ, আকতার, দেলোয়ার, তানজিল, আলমগীর, রহিম, মাসুম, আসাদুল্লাহসহ আরও অনেকে গাড়ি না পেয়ে অবশেষে ব্যাটারী খুলে নিয়ে যান।
দৌলতপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, আটককৃত যানের কথা স্বীকার করে বলেন, ৮ দিনের লকডাউনে সরকারি আদেশ অমান্য করে এ সকল যানবাহনগুলো যাত্রী বহন করায় তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লকডাউন শেষ হলে যানবাহনগুলোকে স্ব-স্ব ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ সকল ছোট যানবাহনের বিরুদ্ধে কোন মামলা করা হয়নি। কেবলমাত্র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশক্রমে থানায় আটক রাখা হয়েছে। আটককৃত যানবহনের ব্যাটারী যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সে জন্য আমরা মালিক বা চালককে ব্যাটারী খুলে নিয়ে যেতে বলেছি। তবে গাড়ী লকডাউন শেষে ফেরৎ দেয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

(ঊষার আলো-এমএনএস)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ