ক্রেতা শূণ্যতায় নগরীতে ইফতারী ব্যবসায়ীরা হতাশ

সর্বশেষ আপডেটঃ
38
0

ঊষার আলো প্রতিবেদক : করোনা মহামারীর কারণে বাহারী ইফতারী সাজিয়ে নিয়ে বসে ব্যবসা করে আসছে মহানগরীর ইফতার ব্যবসায়ীরা। ঠিক ইফতারীর আগ মুহূর্তে এক সাজ সাজ রব বিরাজ করে সর্বত্রই। সমগ্র মহানগর জুড়ে পাড়া-মহল্লায়, অলিতে গলিতে ইফতারী কেনার হিড়িক পড়ে। ব্যবসায়ীরাও রমজানকে ঘিরে ইফতার বিক্রি করে বেশ মুনাফা অর্জন করে। তবে পবিত্র রমজানের প্রথম দিনের সরকারি নিয়মের বেড়াজালে পড়েছেন রোজদাররা। সরকার ঘোষিত লকডাউনের ঘোষিত উন্মুক্ত স্থানে ইফতারী বিক্রির নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেকে ইচ্ছা থাকলেও বাইরে হতে ইফতার কিনতে ঘরের বাইরে আসছেন না। যে কারণে নগরীর ভ্রাম্যমান ইফতার ব্যবসায় ধস নেমেছে, নেই কাঙিক্ষত কেনাবেচা বা ক্রেতা।
অদৃশ্য ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশের মতো সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন চলছে। মানুষের আনাগোনা কমেছে সড়কে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মুখে লকডাউনের কারণে অনেক দোকান বন্ধ থাকায় এবার দৌলতপুরে খুব কমই দেখা মিলছে ইফতারীর দোকান। তাই যেন ধস নেমেছে ইফতার বিক্রিতে।
সরেজমিনে, নগরীর মহানগরের নিজ মার্কেট এলাকা, বয়রা, বৈকালী, জোড়াগেট সিএন্ডবি কোলনী, ২৫০ শয্যা বেড সংঘগ্ন এলাকার হোটেল সমূগ, সোনাডাঙ্গা, গল্লামারী, ডালমিল, বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর, সাতরাস্তা মোড়, রয়েল মোড়, মর্ডান মোড়, টুটপাড়া কবরস্থান মোড়, গ্যালাক্সোর মোড়, রুপসা মোড়, নতুন বাজার, গনন বাবু রোড, ডাকবাংলা মোড়, পিকচার প্যালেস মোড় চত্ত্বর, কোর্ট মোড়, বড় বাজার, স্টেশন রোড, খালিশপুর, দৌলতপুর, রেলিগেট, মানিকতলা, ফুলবাড়ী, শিরোমনিসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছোট পরিসরে ইফতার বিক্রির অস্থায়ী দোকান সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বেশির ভাগ ইফতারের দোকানে ছোলা, বুন্দিয়া, রকমারি চপ, পেঁয়াজু, বেগুনী, নিমকি, মুড়ি, কলা ও খেজুরসহ রকমারী ইফতার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এসব দোকানে আগের মতো সাজসজ্জা ও জৌলুস নেই। নেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ডাকাডাাকি। যেন ইফতার কেনাবেচা নিয়ে ছিল না চিরচেনা উৎসবের আমেজ। কোর্ট মোড়ের হোটেল মালিক বারেক বলেন, প্রতি বছর রমজান মাসে ইফতার তৈরী করি। সময়ের আগে ইফতার শেষ হয়ে যায়। তবে করোনার কারণে এ বছর রোজা খোলার পরও ইফতার থেকে যায়। লকডাউনের কারণে দোকানে ভিড় দেখা যাচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা মেনে ইফতার সামগ্রীর বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্রেতাদের তেমন চাপ নেই।
দৌলতপুর ঋষিপাড়া ইফতারী হোটেল ব্যবসায়ী খোকন বলেন, সেই দুপুর হতে রোজা খোলার আগ পর্যন্ত ইফতার বানাচ্ছি। তবে কাংক্ষিত ছাড়া মিলছে না। লকডাউনের কারণে এ বছর কেনাবেচা নেই। লাভ তো দূরে থাক, ইফতার বানিয়েই ভূল করে ফেলেছি। খুলনা স্টেশন রোডে ইফতারী কিনতে আসা ক্রেতা রিক্সাচালক হাফিজ বলেন, বাড়ীতে ইফতার বানানো খুবই খরচ। তাই ২৫/৩০ টাকার মধ্যে ইফতার কিনে বাড়ি নিয়ে যায়। কিন্তু প্রতিবছরের ন্যায় এ বছর দোকানে ভীড় দেখছিনা। লকডাউনে কেউ আর বাইরের আসেনা ইফতার কেনার জন্য বাসায়ই তৈরী করে।
এ অধিকাংশ ব্যবসায়ীরাই বলেছেন পবিত্র মাহে রমজানের ইফতার কিনতে অনেকেই বিকেলের পর বাসা থেকে বের হয়েছেন ঠিকই তবে কাক্ষিত কেনাবেচা নেই। যে কারণে দৌলতপুর ভ্রাম্যমান ইফতারী ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ