সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা হবে : রিজভী

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে ফ্যাসিবাদী নিষ্ঠুর শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের এই ঘোর দুূর্দিনের কালে আজিজুল হাসান দুলুর মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর অকালে চলে যাওয়া আমাদের জন্য হৃদয় বিদারক।

অকাল প্রয়াত খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল হাসান দুলুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনীর ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনা ও স্মরন সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে মহানগর ও জেলা বিএনপির যৌথ আয়োজনে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সরকার যেনতেন ভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। গত ৩১ জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত জনদাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অংশ নেয়া মানুষকে আর গুলি করে হত্যা করা যাবেনা দাবি করে রিজভী বলেন, বাঁশের লাঠিতে জাতীয় পতাকা ধারণ করে শাসক দলের সকল ব্যারিকেড ভেঙ্গে বিএনপির আন্দোলন এগিয়ে যাবে। সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা হবে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই সরকার মিথ্যাচারী। জাতিসংঘে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী বছর নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে কি হয়েছিল, প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছিল। এর আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন তিনি ৫৭ বছর বয়সে রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। তিনি কি নিয়েছেন? তারা নিজেদের অপকর্মের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চায়। ইডেন কলেজে কলংকজন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে ও ভিসির প্ররোচনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জে পুলিশের গুলিতে শাওন নিহত হলে এসপি বলেছে সে ঠেলাঠেলিতে মারা গেছে। অথচ শাওনের ডেথ সার্টিফিকেটে রয়েছে শট ডেড। যারা পোস্টমর্টেম করেছেন তারাও গুলিতে মৃত্যুর কথা বলেছেন।
শেখ হাসিনা স¤্রাজ্ঞীর মতো দেশ শাসন করছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের সমস্ত মিডিয়াতে তার জন্মদিনের সংবাদ ছাপতে বাধ্য করা হচ্ছে। গণমাধ্যমের মাথার ওপর ধারালো তরবারি ঝুলছে। গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান আন্দোলনের তরঙ্গ তৈরি করেছেন। গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা করে আর আন্দোলন দমন করা যাবেনা।
মহানগর বিএনপির আহবায়ক শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে সমাবেশে মূখ্য আলোচক ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এই সভাপতি প্রয়াত দুলুর স্মৃতিচারণ করে বলেন, দুলু মরে নাই। আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দুলু বেঁচে থাকবে আজীবন।
এই সরকার সব সময় উন্নয়নের গান গায়। এই উন্নয়ন তাদের দলের নেতাকর্মীদের ভাগ্যের উন্নয়ন। মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে তারা বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। বেগম পাড়ায় বাড়ির মালিক হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও ইভিএম’রও সমালোচনা করে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, তত্বাবধায় সরকার ছাড়া আগামীতে দেশে কোন ভোট হবে না, কোন ভোট হতে দেয়া হবেনা।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীর সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবীদ শামীমুর রহমান শামীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবর রহমান, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সাঈদ সোহরাব, জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খান, খুলনা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ তারিকুল ইসলাম জহীর, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু হোসেন বাবু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাবেক দল নেতা মোঃ জমির আলী।

স্মরণ সভায় আজিজুল হাসান দুলুকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন বক্তারা। বলেন, একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সুদক্ষ সংগঠক, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে তিনি ছিলেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। শুধু রাজনীতিতে নয়, সামাজিক সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রেও তার নেতৃত্ব ও দক্ষতার পরিচয় ছিল। অসংখ্য মামলা ও দফায় দফায় কারাবরণের ফলে তিনি শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ছিলেন। রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে ব্যতিব্যস্ত থাকায় শরীরের যতœ নিতে পারেননি। ফলে অকাল মৃত্যুকে বরণ করতে হয়। দুলুর মৃত্যুকে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড হিসেবেও অভিহিত করেন বক্তারা।
স্মরণ সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং মরহুম আজিজুল হাসান দুলুর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা ওলামা দল সভ্পাতি মাওলানা ফারুক হোসেন।

উপস্থিত ছিলেন খান জুলফিকার আলী জুলু, স ম আব্দুর রহমান, সৈয়দা রেহানা ঈসা, এ্যাড. নুরুল হাসান রুবা, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, আব্দুর রকিব মল্লিক, শের আলম সান্টু, আবুল কালাম জিয়া, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, বদরুল আনাম খান, শেখ তৈয়েবুর রহমান, মাহবুব হাসান পিয়ারু, শামীম কবির, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, আশরাফুল আলম নান্নু, একরামুল হক হেলাল, মাসুদ পারভেজ বাবু, শেখ সাদী, এনামুল হক সজল, চৌধুরী কওসার আলী, শেখ জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, ডাঃ আব্দুল মজিদ, হাফিজুর রহমান মনি, খায়রুল ইসলাম খান জনি, আশফাকুর রহমান কাকন,ওয়াহিদুর রহমান দীপু, বেগ তানভিরুল আযম, অসিত কুমার সাহা, শেখ শাহিনুল ইসলাম পাখী, শাকিল হোসেন দিলু, রুবায়েত হোসেন বাবু, মুরশিদ কামাল, ইলিয়াস হোসেন মল্লিক, আরিফ ইমতিয়াজ খান তুহিন, কে এম হুমায়ুন কবির, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, সাজ্জাদ হোসেন তোতন, সৈয়দ সাজ্জাদ আহসান পরাগ, সুলতান মাহমুদ, কাজী মিজানুর রহমান, এহতেশামুল হক শাওন, এ্যাড. তৌহিদুর রহমান চৌধুরী তুষার, এস এম মুর্শিদুর রহমান লিটন, একরামুল কবির মিল্টন, নাজমুস সাকির পিন্টু, নাজিরউদ্দিন নান্নু, শেখ ইমাম হোসেন, আরিফুর রহমান, হাবিবুর রহমান বিশ^াস, খন্দকার ফারুক হোসেন, হাসানউল্লাহ বুলবুল, সেলিম সরদার, এ্যাড. মোহাম্মদ আলী বাবু, সরোয়ার হোসেন, শরিফুল আনাম, রফিকুল ইসলাম বাবু, শেখ জামালউদ্দিন, আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, গাজী আফসারউদ্দিন, সরদার আব্দুল মালেক, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, আনসার আলী, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান, আলমগীর হোসেন, ফারুক হোসেন হিল্টন, তারিকুল ইসলাম, খন্দকার হাসিনুল ইসলাম নিক, জাফরি নেওয়াজ চন্দন, মোঃ জাহিদুল হোসেন জাহিদ, শামসুল বারিক পান্না, মিজানুর রহমান মিল্টন, শফিকুল ইসলাম শফি, আলী আক্কাস, ফারুক হোসেন, মুজিবর রহমান, আজিজা খানম এলিজা, যুবদলের ইবাদুল হক রুবায়েদ, কাজী নেহিবুল হাসান নেহিম, আব্দুল আজিজ সুমন, ছাত্রদলের আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, ইসতিয়াক আহমেদ ইস্তি, গোলাম মোস্তফা তুহিন, মোঃ তাজিম বিশ^াস, মহিলা দলের এ্যাড. কানিজ ফাতেমা আমিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আতাউর রহমান রুনু, আনোয়ার হোসেন আনো, ওয়াহিদুজ্জামান হাওলাদার, ইউসুফ মোল্লা, মুনতাসির আল মামুন, কৃষক দলের খায়রুজ্জামান তালুকদার সজীব, মোল্লা কবির হোসেন, শেখ আবু সাঈদ, শ্রমিক দলের খান ইসমাইল হোসেন, জাসাসের ইঞ্জিনিয়ার নুর ইসলাম বাচ্চু, নুরুজ্জামান নিশাত।