রহিমা নিখোঁজ নাটকের কে মাস্টারমাইন্ড!

সর্বশেষ আপডেটঃ
ছবি সংগৃহিত : রহিমা বেগম

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি : মহেশ^রপাশা বণিকপাড়া এলাকার গৃহবধূ রহিমা বেগম নিখোঁজ নাটক নিয়ে নিজ এলাকাসহ সারাদেশ এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সকলের মধ্যে একই প্রশ্ন-আসলে এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড কে? এক্ষেত্রে ঘুরেফিরে আসছে তাঁর পরিবারের নাম। এরা হলো মেয়ে মরিয়ম মান্নান, রহিমা বেগমের তৃতীয় স্বামী বেল্লাল হোসেন। কারণ ঘটনার দিন প্রথমে বেল্লালই জানান যে, রহিমা বেগম নিখোঁজ। আর নিখোঁজের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করতে মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন মরিয়ম। এসব বিষয়কে সামনে রেখে পুলিশ তদন্তে নেমেছে।

এদিকে মেয়ে মরিয়মের জিম্মায় ছাড়া পেয়ে রহিমা বেগম মরিয়ম মান্নানের ঢাকার বসুন্ধরার ভাড়া বাড়িতে গেছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রহিমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন মান্নান (মৃত)। সেই ঘরে ৫ মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। অন্যদিকে মান্নানের আরও দুটি বিয়ে রয়েছে। এর একটি পক্ষে দুই ছেলে রয়েছে। তারা থাকেন বরগুনায়। খুলনায় পিতার (মান্নান) রেখে যাওয়া সম্পত্তি ভোগদখল করছিল রহিমা বেগমের ঘরের ৫ মেয়ে ও এক ছেলে। ওয়ারিশসূত্রে মহেশ্বরপাশার ওই জমির অংশ পান বরগুনায় থাকা মান্নানের দুই সন্তান । তারা এক মুহুরির কাছে তাদের কাছে ওই জমির একটি অংশ বিক্রি করেন। এরপর মহুরীর কাছ থেকে স্থানীয় প্রতিবেশী গোলাম কিবরিয়া, ও হেলাল শরীফ ওই জমি দ্বিতীয় দফায় ক্রয় করেন। তারা জমির দখল নিতে গেলে রহিমা বেগমের সন্তানদের সঙ্গে বিরোধ বাধে। এ নিয়ে বিরোধের শুরু হয়। এরপর রহিমা বেগমের পরিবার গোলাম কিবরিয়া ও হেলাল শরিফসহ ৫ জনের বিরদ্ধে মামলা করে। ওই মামলার তারিখ ছিল চলতি মাসের ১৩ সেপ্টেম্বর। ওই মামলা নিজেদের পক্ষে নিতে ও ক্রোধের বশবর্তী হয়ে নিখোঁজ নাটক সাজানো হয়।

এলাকাবাসী জানায়, মহেশ্বরপাশার ওই জমিতে রহিমার ছেলেমেয়েরা থাকে না। সেখানকার ঘরগুলো ভাড়া দেওয়া। তবে তৃতীয় স্বামী বেল্লালকে নিয়ে একটি ঘরে থাকেন রহিমা বেগম। ঘটনার দিন রহিমার সঙ্গে বেল্লালও ওই বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে যাওয়ার পর ফিরে না আসার ঘটনাটি প্রথম রহিমা বেগমের মেয়েদের (আগের ঘরের মেয়ে) জানান বেল্লাল। মান্নান মারা যাওয়ার অনেক পরে রহিমা বেগম বেল্লালকে বিয়ে করেন।

এলাকাবাসী জানান, মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র খোuজার জন্য স্থানিয় বেল্লাল ঘটককে দায়িত্ব দিলেও শেষমেষ বিল্লাল ঘটককেই বিয়ে করেন রহিমা। ওই ঘরে কোনো সন্তান নেই। পুরো ঘটনার ওপর ভিত্তি করে পুলিশ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে সামনে এগোচ্ছে। রহিমা বেগমের নিখোঁজের ঘটনার সঙ্গে পরিবারের কেউ জড়িত কিনা। আসামিদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা। জমি নিয়ে বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে।

ভিকটিম রহিমা বেগম উদ্ধার হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে সুবিধা হবে মন্তব্য করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ইন্সপেক্টর আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা এখনো কাউকেই সন্দেহের বাইরে রাখিনি। মামলার বাদী ও তার পরিবারের লোকজন পরিকল্পনা করে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। অধিকতর তদন্ত না হলে এ বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, পুলিশের কাছে দেওয়া ভিকটিমের বক্তব্য এবং আদালতে দেওয়া বক্তব্যে অমিল রয়েছে। তার ভিন্নমুখী বক্তব্য তদন্তকে প্রভাবিত করছে। তাই এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসাটা মুশকিল।আদালতে ভিকটিম যে বক্তব্য দিয়েছেন তা হলো-গত ২৭ আগস্ট পানি নেওয়ার জন্য আমি বাসার নিচে নামি। তখন রাত ১০টা। ওই সময় কয়েকজন লোক আমার বাড়ি প্রবেশ করে। আসামিরা আমাকে কোলে তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। হুঁশ ফিরলে তাকিয়ে দেখি সাইনবোর্ডে পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখা। এরপর আমি রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেনে করে ঢাকা আসি। ঢাকা থেকে মুকসুদপুরে আসি। সেখান থেকে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে আমার ভাড়াটিয়া কুদ্দুসের বাড়ি যাই। তাদের আমি পুরো ঘটনা খুলে বলি। সেখানে আমি সপ্তাহ খানেক ছিলাম। ওই বাড়ি থেকেই পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে আসে।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, সেখান থেকে অতিদ্রত অন্যায়ভাবে আটককৃতদের মুক্তি রহিমা বেগম ও তার মেয়ে মান্নান মরিয়মসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের রিমান্ডে এনে মূল ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ফুলবাড়ীগেট বাসষ্টান্ডে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অন্যায়ভাবে জেলে আটককৃতদের মুক্তি ও অপহরণের নাটক সাজানোর ঘটনায় জড়িত মরিয়ম মান্নানসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার পুর্বক রিমান্ডে এনে মূল ঘটনা উদঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।