বইপড়া ও জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বয়রাস্থ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বই না পড়ে কেউ স্মরণীয় ও বরণীয় হতে পারে না। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে দূরে রেখে নিয়মিত বই পড়ার প্রতি উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বই মানুষের জ্ঞান ও মননকে সমৃদ্ধ করে এবং জাতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোছা. মরিয়ম বেগম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান মো. সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জানানো হয়, বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিচালিত হচ্ছে।
পাঠক সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অতিথিরা ভ্রাম্যমাণ বইমেলা পরিদর্শন করেন এবং পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
এর আগে বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উল্লেখ্য, পাঠক সমাবেশ উপলক্ষে বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে চার দিনব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাঁচটি স্টলে ৩০ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি করা হচ্ছে। আগামী ১ আগস্ট বইমেলার পর্দা নামবে।
