ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনার একুশে বই মেলায় ছুটির দিন শুক্রবারে লেখক-কবি, সাহিত্যিক আর দর্শকের ঢল নামে। মেলা প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর। ক্রেতাদের চাপ ঠেকাতে বিক্রেতাদের হিমশিম খেতে হয়। তবে মেলার সময় বাড়ানোর দাবি স্টল মালিকদের। তারা আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত বই মেলা চালু রাখার দাবী জানালেও কর্তৃপক্ষ দোলাচলে রয়েছে। সন্ধ্যার ঠিক আগ মূহুর্তে নারী দিবস উপলক্ষে পেশাজীবী বিতর্ক “দিন শেষে আমাকে প্রয়োজন” মেলা মঞ্চে বেশ জমে ওঠে। দর্শকরা বেশ মনযোগ সহকারে বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপভোগ করে।
শুক্রবার (১১ মার্চ) ছিল মেলার ১৫তম দিন। ঘড়ির কাটায় বিকেল সাড়ে পাঁচ বাজে। বয়রাস্থ বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে চলছে বই মেলা। মেলা প্রাঙ্গণ দর্শকের আগমনে পরিপূর্ণ। ক্রেতা সামলাতে ব্যস্ত স্টল মালিকরা। বুক পয়েন্ট স্টলের মালিক এসএম আল আমিন। তিনি বলেন, এবার মেলার পরিবেশটা বিগত দিনের চেয়ে ভাল। বেচাবিক্রি ভাল। করোনা না থাকার কারণে অভিভাবকসহ বাচ্চাদের ভীড় বাড়ছে। তবে মেলার সময় ২৬ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি তার।
আসফিয়া লাইব্রেরী নামক স্টলের মালিক কেএম তুহিন বাবু ক্রেতা সামলাতে হিশশিম খাচ্ছেন। কথা বলঅর সুযোগ খুবই কম। এক ফাকে হাসি মুখে বলেন, এবার দর্শক সমাগম ভাল। বেচাবিক্রিও ভাল। তবে মেলার সময়টা বাড়ালে তারা বেজায় খুশি। তার স্টলে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের “আহা টুনটুনি উহু ছোটাচ্চু” বইটির কাটতি ভাল বলে তিনি জানান।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একুশের আলো খুলনার প্রতিনিধি মাহবুবুল হক বলেন, তারা নাম মাত্র মূল্যে রক্তের গ্রুপিং করছেন। এবার সাড়া ভাল। রক্তের গ্রুপিং করতে বিগত দিনের চেয়ে এখন চাপ অনেক বেশী। কবি ও লেখক রূপা বাড়ৈ বলেন, ৫৯টি কবিতা নিয়ে তার নতুন বই মেলায় এসেছে। তিনি নিজেও একটি স্টল নিয়ে বসেছেন। নিজের বইয়ের পাশাপাশি অন্যের বই বিক্রি করে তিনি বেশ আনন্দ পাচ্ছেন। তিনিও মেলার সময় বাড়ানোর দাবি করেন। বাংলাদেশ পুস্তক, প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি খুলনার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ১০দিন পরে খুলনার বই মেলা শুরু হয়েছে। ঝড়, বৃষ্টি না হলে মেলার সময় বাড়ানো নিয়ে কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক ভূমিকায় আছেন বলে তিনি জানান।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. আহসানুল্লাহ বলেন, এবার মেলায় স্টল করা হয়েছে ৯৫টি। কোন স্টল খালি নেই। আগামী ১৭ মার্চ বই মেলা শেষ হবে। তবে মেলার সময় বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করে এগুনো যাচ্ছে না। কারণ সামনে সাত দিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলা হবে।
