UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় ট্যাংক লরি শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত

koushikkln
মার্চ ২৯, ২০২২ ১০:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক : দু’লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের লাইন সম্পাদক আল আমিনের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ডাকা শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও ট্যাংকলরি নেতাদের বৈঠকে শনিবার পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। বৈঠকে শ্রমিক নেতা আল আমিনের উপর হামলাকরীদের শনিবারের মধ্যে গ্রেফতারের আশ্বাস দেওয়া হয়।

এর আগে শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা তিনটি ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকাল ৮ টা থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে খুলনা ও বৃহত্তর ফরিদপুরের ১৫ জেলায় তৈল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এদিকে হামলার ঘটনায় শ্রমিক নেতা আল আমিনের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মীর মোকসেদ আলী বলেন, সকাল থেকে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনা হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মসূচি চলবে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শ্রমিকরা ইউনিয়ন অফিসের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মীর মোকছেদ আলী। অতিথি ছিলেন খুলনা জ্বালানী তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি আঃ গফ্ফার বিশ্বাস, সাঃ সম্পাদক শেখ মুরাদ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আঃ সোবহান মোড়ল ও আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, ট্যাংক লরী শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু, ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি শেখ সেলিম আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন পদ্মা মেঘনা যমুনা ট্যাংক লরী শ্রমিক কর‌্যাণ সমিতির সাঃ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম কালু, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংক লরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাঃ সম্পাদক আলী আজিম, আ’লীগ নেতা শেখ খালিদ আহমেদ, শেখ নুর ইসলাম, এনাম মুন্সী, রমজান আলী, ফারুখ হোসেন বাবু, এমদাদুল হক, মনিরুজ্জামান খোকন প্রমূখ। পরিচালনায় ছিলেন ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান মিজু।

খুলনা বিভাগীয় ট্যাংক লরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাঃ সম্পাদক আলী আজিম বলেন, ২৮ মার্চ দুপুরে কাশিপুর বাংলার মোড়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আল আমিনকে গুরুতর জখম করে। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা যে যেখানে ছিল সেখানে গাড়ি রেখে প্রতিবাদ শুরু করেন। নগরীর নতুন রাস্তা মোড়ে দুপুর ১ টা থেকে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। প্রশাসনের আশ্বাসে বিকাল ৪টায় সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারো কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আহত আল আমিনের বাবা হাজী কেরামত আলী বলেন, তার ছেলেকে সবাই ভালবাসে। কারো সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই। তারপরও কেন তাকে দুর্বৃত্তরা মারলো-এ প্রশ্নের জবাব তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।

মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আহত আল আমিনের অবস্থা এখনও উন্নতি হয়নি। ইসতিয়াক ও রিযাজসহ ১০/১২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দু’লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে দুর্বৃত্তরা তার ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাতœক আহত করে। বর্তমানে সে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

খালিশপুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আল আমিনের ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।