বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার খালিশপুর থানাধীন ১০নং ওয়ার্ডের বাবুস সালাম জামে মসজিদ ও বঙ্গবাসী এলাকায় দিনব্যাপী গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করে জুলাই সনদকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের স্বার্থে তা ভিন্ন পথে পরিচালিত করতে পারে। নভেম্বরে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া গেলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করবে বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারকে নভেম্বরে গণভোটের ব্যবস্থা নিয়ে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার আহ্বান জানান অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণের সমর্থন নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছে জামায়াতে ইসলামী।
গণসংযোগে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন—১০ নং ওয়ার্ড আমীর গাজী দেলোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি বিপ্লব হোসেন বাবু, মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, মাওলানা ইমরান হুসাইন তুহিন, মাওলানা আরিফ বিল্লাহসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
খুলনা-৩ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত স্বৈরাচারমুক্ত দেশকে এগিয়ে নিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে জনগণের হয়ে কাজ করতে হবে। কোনো দল বা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ৫ দফা দাবিতে সোচ্চার রয়েছে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলেই জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। ফ্যাসিস্ট সরকার ও তাদের দোসরদের বিচার না হলে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র হতে পারে। প্রশাসনের সংস্কার, জাতীয় পার্টি ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
তার ভাষায়—“অন্যথায় ফ্যাসিবাদ আবার নতুনরূপে ফিরে আসবে”—তাই এবিষয়ে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।
ঊআ-মোহন চৌধুরী
