ঊষার আলো প্রতিবেদক : নগরীর ফেরিঘাট দেবেনবাবু রোডে আলোচিত টিনাবস্তি থেকে মাদক কারবারের দায়ে বিতাড়িতরা আবারো টিনাবস্তিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেছে। বুধবার (০৯ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে মাদক বিক্রেতাদেও একদল এসে বস্তিতে ঘর নির্মাণ শুরু করে। পরে সোনাডাঙ্গা পুলিশের হস্তক্ষেপে ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়। তারা এলাকায় অবস্থান করে মাদক বিরোধী আন্দোলনকারীদের দেখে নেয়াসহ নানা ধরনের উস্কানিমূলক কথা বার্তা বলছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্দ মাদক বিরোধী আন্দোলনকারীরা আতংকের মধ্যে দিন যাপন করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আন্দোলনকারীরা আশংকা করছেন।
ফেরিঘাট মাদক প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ কামাল বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মাদক বিক্রির দায়ে তারা এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়। আবার তারা ফিরে অনেকটা জোর করে ঘর নির্মাণ করতে চায়। এটা বাধা দিয়ে সংঘর্ষ হতে পারে। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয় সে জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে।
সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক ফারুকুল ইসলাম জানান, ফেরিঘাট এলাকা থেকে বিতাড়িত মাদক বিক্রেতারা আবারো ফেরিঘাট টিনাবস্তিতে এসে ঘর নির্মাণ করছে। একই সাথে তারা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে গাল মন্দ আর উস্কানিমূলক কথা বার্তা বলছে। যা মাদক বিরোধী আন্দোলনকারীদের আতংক গ্রস্ত করছে। ক্ষুব্দ আন্দোলনকারীদের সাথে যে কোন সময় সংঘর্স বাধতে পাওে বলে তিনি মনে করেন। এ জন্য তিনি বিষয়টি সোনাডাঙ্গা থানার ওসিকে অবগত করেন। সে মতে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দিয়ে যায়। তাদেরকে রাতে ওসি থানায় ডেকেছে বলে তিনি জানান।
ওই এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী রাজা বলেন, মাদক বিক্রেতারা আবারো টিনাবস্তিতে আস্তানা গাড়লে এলাকার পরিবেশ নস্ট হবে। শান্তিতে বসবাস করা কস্টকর হয়ে পড়বে।
জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা অবৈধ হলে কোনভাবেই বস্তিতে ঘর নির্মাণ করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, নগরীর ফেরিঘাট দেবেন বাবু রোডস্থ টিনাবস্তি সরকারি সম্পত্তি। ডিসির কাছ থেকে জমি বরাদ্দ নিয়ে নগরীর দরিদ্র মানুষ এখানে বসবাস করছে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে বস্তি বাসিন্দাদের একটি অংশ মাদক বিক্রির সাথে জড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক বিক্রির ব্যাপারে নিষেধ করার পরও তারা আমলে নেয়নি। অবশেষে এলাকাবাসীর আবেদন ও আন্দোলনের মুখে জেলা প্রশাসক গত ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ছয় জনের জমির বরাদ্দ বাতিল করেন। বরাদ্দ বাতিলকৃতরা হলো- ভোলা মিয়ার ছেলে ফখরু, মোখা মিয়ার ছেলে জাহিদ, আজিম ভূইয়ার ছেলে তাজিম, হয়রত শেখের ছেলে মুজিবর, কুজো মুন্নার স্ত্রী জামিলা বেগম ও নিলু মিয়ার স্ত্রী রোকসানী বেগম। পরে ২০১৪ সালেল ২৭ জানুয়ারী এসব মাদক বিক্রেতাদের জেলা প্রশাসক উচ্ছেদ করে দেয়। তখন থেকে এসব মাদক বিক্রেতারা এলাকা থেকে বিতাড়িত। কিন্তু তারা নানা সময়ে নানা কৌশলে আবারো টিনাবস্তিতে আসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও তারা টিনাবস্তিতে আসছে। গতকাল তারা দলবল নিয়ে টিনাবস্তিতে চড়াও হয়। বাঁশ, খুটি, দা, শাবল নিয়ে ঘর তৈরীর কাজ শুরু করে। তারা একাধীক ঘর তৈরীর জন্য বাশ মাটির নীচে পোতে। একই সাথে চলে মুখে মাদক বিরোধী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে অকথ্যভাষায় গালমন্দ আর হুমকি ধামকি। খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ এসে তাদের ঘর তৈরীর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলে। তারা ব্যর্থ হলে পুলিশ তাদের ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ ও বস্তি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। তারা ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করলেও বস্তি ছেড়ে চলে যায়নি। উল্টো ওখানে রান্না করে আনদে উল্লাস করে খাওয়া-ধাওয়া করে।
