খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে ২৪টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করে বৃহস্পতিবার থেকে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)।
বুধবার বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সভায় জানানো হয়, জোন ‘এ’-তে ১, ২, ৩, ৫, ১০, ১২, ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড, জোন ‘বি’-তে ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং জোন ‘সি’-তে ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড রাখা হয়েছে। তিনটি জোনের কার্যক্রম তদারকিতে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্রাশ প্রোগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের খুলনা সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের সামনে এবং সাড়ে ৯টায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ড অফিসের সামনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন কেসিসি প্রশাসক।
সভায় প্রতিদিন সকাল-বিকেল মশকনিয়ন্ত্রণ ওষুধ স্প্রে ও ফগিং, আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিতকরণ, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো বাড়ি বা স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়া গেলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং টায়ার, কৌটা, ফুলের টবসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
