ঊষার আলো প্রতিবেদক : করোনা সংক্রমন নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষে খুলনা জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি খুলনা মহানগর ও জেলায় গত ২২ জুন হতে যে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া ৭ দিন কঠোর লকডাউন চলবে আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত।
কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নের লক্ষে পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসন, নগর গোয়ান্দা পুলিশের সদস্যরা সাতদিনের লকডাউনকে অত্যন্ত কঠোর ভাবে দেখছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) ছিল কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিন। শাসনের ভুমিকা মনিটরিংয়ের জন্য মাঠে নামেন। খুলনা-যশোর মহাসড়কে প্রশাসনের কড়াকড় নজরদারী আর টহল ছিল চোখে পড়ার মেতো। চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে নতুন রাস্তা মোড় অপরদিকে মানিকতলা মাইল পোষ্টসহ বসিয়ে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে ইজিবাইক, থ্রি-হুইলারসহ যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ থাকার কথা থাকলেও এ আমলে না নিয়ে খুলনা যশোর মহাসড়কে সকাল হতেই ইজিবাইক, সিএনজি, মাহেন্দ্র, ইজ্ঞিনচালিত ভ্যান-রিক্সা, মোটর সাইকেল চলাচল করে। তবে মহাসড়কে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কঠোর অবস্থানে এই যানবহনগুলো নির্ধারিত গন্তব্য যেতে দেয়া হয়নি। বরং লাইসেন্স, ডিএল, আর হেলমেট না থাকায় কঠোর লকডাউনের মধ্যে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার অপরাধে একাধিক মামলা দায়ের করেন উপ-পুলিশ পরিদর্শকগন। দিনে নগরীর দৌলতপুর থাকলেও সন্ধ্যার নগরীর দৌলতপুর থানাধীন এলাকার পাড়া-মহল্লার দোকানসহ চায়েক দোকানগুলোতে চলছে বেচাকেনার মহাউৎসব। বিশেষ করে ঋষিপাড়া, পাবলা, আসাদের মোড়, যশোর মোড়, পাখির মোড়, পূর্বপাড়া ঈদগাহ মোড়, মুকুল ভান্ডার, মোল্লার মোড়, চুন্নুর বটতলা, কবির বটতলা, সবুজ সংঘ মাঠ চত্ত্বর, কল্পতরু মাঠ চত্ত্বর, মীনাক্ষী মোড় চত্ত্বর, ফাল্গুনী মোড় চত্ত্বর, মধ্যডাঙ্গা স্কুল মাঠ চত্ত্বর, রেলিগেট মোড় চত্ত্বর, কালিবাড়ী বাজার চত্ত্বর, মানিকতলা মোড় চত্ত্বর, রানার মাঠ চত্ত্বর সহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পর স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই দেখা যায় না। আর সবচেয়ে বড় কথা কঠোর লকডাউন চলছে, প্রজ্ঞাপনে বিনাপ্রয়োজনে ঘর হতে বাাহির হতে নিষেধ করা হয়েছে। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান বাদে কোন দোকান খোলা যাবেনা। সেখানে দীর্ঘরাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নিয়মের অবমাননা করে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে শতাধীক জনসমাগম করে হাক ডাক দিয়ে চলছে বিকিকিনি। সুধী সমাজ অর্ধসার্টারে খোলা এসব দোকানগুলো কিভাবে খোলা রেখে কেনাবেচা করছে এমন প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশ প্রশাসনের নিকট। তারা দিনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করলেও সন্ধ্যার পর তদারকি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধসহ সমাগম কমাতে না পারলে সংক্রমনের সম্ভাবনা থেকে যাবে।
ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক গোলাম রব্বানী টিপু বলেন, আমরা জ্ঞানী, বিবেকবান মানুষ। আমরা সকলেই জানি প্রতিদিনই খুলনার অবস্থা করোনা ভাইরাসে সংক্রমনের কারণে বিপদজনক অবস্থায় অবস্থান করছে। এ মতাবস্থায় কোন মতোই বিনাপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো এবং অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। আমাদের নিজের এবং পরিবারের কথা ভেবে সকলের ৭ দিনের লকডাউন বাস্তবায়ন করা করা উচিত। এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, খুলনায় করোনা সংক্রমন বৃদ্ধির দরুন তা প্রতিরোধে সাত দিনের যে লকডাউন দেওয়া হয়েছে তার বাস্তবায়নে দৌলতপুর থানা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চেকপোষ্টের মাধ্যমে যানবহনসহ লোক সমাগম রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের করা হয়েছে পাশিপাশি এলাকা ভিত্তিক নিয়মিত মোবাইল টহলও অব্যহত আছে। যেহেতু সন্ধ্যার পর এলাকার পাড়া-মহল্লায় দোকান খোলা রাখা হচ্ছে যেহেতু এ ব্যাপারে দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহন করছি।
(ঊষার আলো-এমএনএস)
