UsharAlo logo
, |

দৌলতপুরে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও সড়কে লোক সমাগম বেশি

ঊষার আলো
জুন ২৩, ২০২১ ৬:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক :  করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সিধান্তক্রমে খুলনা মহানগর ও জেলায় ২২ জুন হতে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন আজ। লকডাউনের প্রথম দিন অপেক্ষা বুধবার (২৩ জুন) স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি নগর গোয়ান্দা পুলিশের সদস্যসহ পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা সাতদিনের লকডাউনে প্রশাসনের ভুমিকা মনিটরিংয়ের জন্য মাঠে নামেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধের লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে তার যথেষ্ট বাস্তবায়ন হয়েছে নগরীর দৌলতপুরের সর্বত্র জুড়ে। বিশেষ করে খুলনা-যশোর মহাসড়কে প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারী আর টহল ছিল চোখে পড়ার মেতো। দৌলতপুর থানা পুলিশের পক্ষ হতে নতুন রাস্তা মোড়, মানিকতলা মাইল পোষ্টে চেকপোষ্টসহ বেশ কয়েকটি চেকপোষ্ট বসিয়ে নজরদারী করা হয়। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান কোর্টের অভিযানে আতংকিত হয়ে দৌলতপুর সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরাই দোকান বন্ধ রেখেছে। জেলা প্রশাসনের বিধি-নিষেধের বাইরে যেতে পারেনি দোকান মালিকেরা। জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে ইজিবাইক,  থ্রি-হুইলারসহ যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ থাকার কথা থাকলেও আমলে না নিয়ে খুলনা যশোর মহাসড়কে সকাল হতেই ইজিবাইক, সিএনজি, মাহেন্দ্র, ইজ্ঞিনচালিত ভ্যান-রিক্সা চলাচল করে। তবে মহাসড়কে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কঠোর অবস্থানে এই যানবহন গুলো নির্ধারিত গন্তব্য যেতে দেওয়া হয়নি। ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে আর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাস্তায় নামার কারণে এসকল যানগুলোর হাওয়া ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মহাসড়কের দুই পাশে ঔষুরে দোকান ব্যতিত সকল দোকান বন্ধ ছিল। যদিও কেউ অর্ধসার্টারে দোকান খোলা রেখেছে। তাছাড়া, বিনাপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে আসতে নিষেধ থাকলেও প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন মহাসড়ক জুড়ে লোক সমাগম ছিল বেশি। তবে প্রশাসন বাইরে আসার কারণ জানতে চাইলে ডাক্তার, পরিবারের কেউ অসুস্থ, চাকুরীসহ না অজুহাত দেখিয়েছে। পাশাপাশি মাস্ক ছাড়া চলাচলরত ব্যক্তিকে বাধ্যতা মূলক মাস্ক পরিধান করানো, বাইরে বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ দর্শানোর সাপেক্ষে যেতে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া নিত্যাপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ঔষুধের দোকান ছাড়া সকল প্রকার দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ থাকলেও পাড়া-মহল্লার এ সকল দোকানগুলো অধিকাংশই অর্ধসার্টারে, কিছু কিছু দোকান সম্পূর্ন খোলা রেখে কেনাবেচা করছেন নির্ধারিত সময় ছাড়াও, যা নিষেধাজ্ঞার অবমাননা। পাশাপাশি দৌলতপুর মাছ, মাংশসহ সবজির দোকানগুলোতে বেশ ভীড় পরিলক্ষিত হয়েছে। গতকাল দুপুর ২ টার পর দৌলতপুর কাঁচা বাজার, ফলের দোকান, হোটেল রেস্তারা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। খুলনা করোনা পরিস্থিতির অবস্থার চরম অবনতির কারণে ৭ দিনের যে কঠোর লকডাউন দ্বিতীয় দিনের তার যথেষ্ট প্রভাব প্রতিয়মান হয়েছে নগরীর দৌলতপুরে। তবে চাকুরীজীবিদের লকডাউনের মধ্যেও অফিস খোলা থাকার কারণে বেশ দূর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে চাকুরীজীবি মোঃ মুশফিক সোলায়মান জানান, বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান ছুটি নাই। গতকাল অফিসে আসার সময় প্রশাসন বাইকের চাবি নিয়ে নেয়, যদিও চাকুরীর কথা বললে পরে আবার চাবি দিয়ে দেয়। মাহেন্দ্র, ইজিবাইকসহ ছোট ছোট সব যানবহন বন্ধ তাই বাইকসহ অফিসে আসতে হয়েছে। এমন একাধিক চাকুরীজীবিরা যানবহন বন্ধে চরম বিপাকে পড়েছেন। যে কারণে মহাসড়ক গুলোতে লোক সমাগম বেশি।
৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা জ্ঞানী, বিবেকবান মানুষ। জানি মাস্ক আর নিরাপদ দূরত্ব তথা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা সংক্রমনে ঝুঁকি আছে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। সুতারাং আমাদের নিজের এবং পরিবারের কথা ভেবে, ৭ দিনের লকডাউন বাস্তবায়ন করা করা উচিত বলে আমি মনে করি।
লকডাউন বাস্তবায়নে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, খুলনায় করোনা সংক্রমন বৃদ্ধির দরুন তা প্রতিরোধে ৭দিনের যে লকডাউন দেওয়া হয়েছে তার বাস্তবায়নে আমি নিজেই থানাধীন এলাকা ঘুরে ঘুরে মনিটরিং করছি। পাশাপাশি আমার প্রতিটি পুলিশ সদস্যই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের প্রজ্ঞাপনুসারে ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, অটো রিক্সা চলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনসহ বিনাপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি করলে বুঝিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া চেকপোষ্টের মাধ্যমে যানবহনসহ লোক সমাগম রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে পাশিপাশি এলাকা ভিত্তিক নিয়মিত মোবাইল টহলও অব্যহত আছে। লকডাউনের শেষ পর্যন্ত দৌলতপুর থানা নিরলস ভাবে কাজ করে যাবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

(ঊষার আলো-আরএম)