UsharAlo logo
, |

লকডাউনের প্রভাবে ভালো নেই নিম্ন আয়ের মানুষ

ঊষার আলো
জুন ২৬, ২০২১ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক : দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমনে বর্তমানে খুলনা শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে। যে কারণে করোনা সংক্রমন নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষে খুলনা জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এক সপ্তাহের লকডাউন চলছে। যা আগামী ২৮ জুন শেষ হবে। কিন্তু নতুন করে সারা দেশব্যাপী আগামী ২৮ জুন হতে আবার নতুন করে এক সপ্তাহ কঠোর লকডাউনে গোটা দৌলতপুর শহরের নিন্ম আয়ের মানুষগুলো চরম উৎকন্ঠা আর হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ কঠোর লকডাউনের প্রভাবে নগরীর নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের আয়ের পথ প্রায় বন্ধ, যে কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে অধিকাংশ।
করোনার প্রভাব আর দীর্ঘ কঠোর বিধিনিষেধ ও কঠোর লকডাউনে তৃনমূল পর্যায়ের নিন্ম আয়ের মানুষেরা বর্তমানে দুর্দিনে কাটাচ্ছে। নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ তাদের তালিকায় হয়েছে ফুটপাতের ব্যবসায়ী, শ্রমিক, দিন মুজুর, আর রিক্সা-ভ্যান ইজিবাইক, মাহেন্দ্র চালকেরা। দেশের চলমান করোনা ভাইরাসে প্রকোপ আর দীর্ঘ লকডাউনে অনেকটাই জীবন্ত মৃত্যু ঘটাচ্ছে এসকল নিন্ম আয়ের মানুষদের। আর যার প্রভাবে চরম কষ্টে দিন নিপেতিত করছে এই নিন্ম আয়ের মানুষ গুলো। করোনা ভাইরাসের উর্দ্ধমুখি গতি আর দীর্ঘ লকডাউনের কারণে এ সকল নিন্ম আয়ের মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
দৌলতপুর পাবলার রিক্সাচালক মোস্তফা জানান, করোনা ভাইরাসের শুরু হতে আজ পর্যন্ত অনেক কষ্টে আছি। তারপর বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের চাপের মুখে রিক্সা চালাতে পেরেছি। এক বেলা রিক্সা চালিয়ে যে টাকা উপার্জন হয়েছে তাই দিয়ে গোটা পরিবারের ভরণ-পোষন চালিয়েছি। আর বর্তমান সময়ে কঠোর লকডাউনের কারণে রিক্সা রাস্তায় উঠতে দিচ্ছে না। যদি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাস্তায় উঠছি সাথে সাথে হাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে প্রশাসনের লোকজন। তাছাড়া কঠোর লকডাউনের কারণে প্রশাসনের লোক বেশি রাত পর্যন্ত রিক্সা চালাতে দেয়না।
গাইকুড়ের রাজমিস্ত্রির হেলপার মহিদুল জানান, করোনার কারণে কেউ বাড়ীর তৈরী বা মেরামতের কাজ করাচ্ছে না। তারপর আবার মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। একেই তো করোনার বিস্তার বেড়েছে অন্যদিকে কঠোর লকডাউনের কারণে প্রশাসন রাস্তায় নামলেই কেন রাস্তায় নেমেছি জিজ্ঞাসা করছে। কিন্তু কেউ দু’কেজি চাল কিনে দেয় না। লকডাউনের কারণে সম্পূর্ন বেকার হয়ে পড়েছি।
দৌলতপুর আমতলার কাঠ মিস্ত্রি লিটন, করোনা শুরু হতে ধরতে গেলে সম্পূর্ন বেকার। তারপর আবার ঘাড়ের উপর সমিতির কিস্তির ভারী বোঝা। দোকানে কোন ক্রেতা নেই, নেই কোন কাজের অর্ডার। তিনি জানান, একেই কাজ নেই তারপরও দোকান খুলে বসে থাকতাম। মাঝে মাঝে দু’একটি কাষ্টমার আসতো। কিন্তু লকডাউনের কারণে বর্তমানে দোকান খুললেই প্রশাসনের লোক বন্ধ করে দেয়।
দৌলতপুর ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী আরিফ, খালিশপুর পিপলস্ জুট মিলে বন্ধ হওয়ার পর কাটা সিট কাপড় কিনে এনে ফুটপাথে বসে বিক্রি করছিল। তিনি জানান, লকডাউনের কারণে দোকান সম্পূর্ন বন্ধ। পরিবারের ভরণ-পোষন জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছি। জানিনা সামনের দিনগুলো কেমন যাবে?
সবমিলিয়ে বর্তমানে কঠোর লকডাউনের প্রভাবে দৌলতপুরের নিন্ম আয়ের মানুষ গুলো সাধারণ মানুষ গুলো চরম উৎকন্ঠা আর দুর্দিনে দিন নিপেতিত করছে। করোনা প্রভাবে দীর্ঘ লকডাউন ব্যবসায়ীদের করে তুলেছে সর্বশান্ত, তারা নিজ পরিবারের ভরণ-পোষন যোগাতে বর্তমানে হিমহিম খাচ্ছে।
(ঊষার আলো-এমএনএস)