ঊষার আলো প্রতিবেদক : দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমনে বর্তমানে খুলনা শীর্ষে অবস্থান করছে। করোনা শনাক্তে আর মৃত্যুর সংখ্যায় প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে খুলনার জেলার। যে কারণে করোনা সংক্রমন নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষে খুলনা জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এক সপ্তাহের লকডাউন চলছে। শুক্রবার (২৫ জুন) ছিল কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিন। করোনা সংক্রমন রোধে যে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, তা কোনভাবেই কঠোর প্রতিয়মান হচ্ছে না নগরীর দৌলতপুরে। করোনার শুরু হতে আজ পর্যন্ত লকডাউন, কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করলেও বাস্তবে দৌলতপুরে তার কোন ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। প্রতিদিনের মতো জীবন যাত্রার চিত্র দেখা গেছে কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিনে শুক্রবারের দৌলতপুর বাজারের স্বাভাবিক চিত্রে যেখানে বিন্দুমাত্র সচেনতা, সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। বাজারের চিত্র আর সমাগম দেখে মনে হয়নি যে সাতদিনের কঠোর লকডাউন চলছে। করোনার সূচনা হতে আজ পর্যন্ত সরকারী স্বাস্থ্যবিধির উপর যে দিক নির্দেশনা দিয়েছে তা কোনভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না কেবলমাত্র দৌলতপুর বাসীর অসচেনতার কারণে। এবারও লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে স্থানীয় প্রশাসন থাকলেও জনগনকে আর কত সচেতন করা সম্ভব তারা নিজেরা সচেতন না হলে। প্রশাসন জেল জরিমানা করে সংক্রমন রোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ আমরা নিজেরাই সচেতন নয়। জীবন আগে, জীবিকা নয়। জীবিকা অর্জনে নিজেই সংক্রমিত হলে সবকিছুই শেষ, শেষ একটি গোটা পরিবার। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি গণবিজ্ঞপ্তিতে লকডাউন চলাকালে সকল ধরণের দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমল ও কোচিং সেন্টারসমূহ বন্ধ, তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও কাঁচাবাজারের দোকান প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা, উক্ত সময়ের মধ্যে হোটেল-রেস্তারাগুলো পার্সেল আকারে খাবার সরবরাহ করতে পারবে, ঔষধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা রাখা যাবে, ইজিবাইক, থ্রি-হুইলারসহ যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ থাকবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না এমনই প্রজ্ঞাপন জারি করেন। সরেজমিনে, গতকাল শুক্রবার, নগরীর দৌলতপুর বাজার সর্বত্র ছিল জনসমাগম। কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই, নেই সামাজিক দূরত্ব। কাঁচা বাজার, মাছ বাজার, মাংসের বাজার সর্বত্র জনসমাগম, দেখে বোঝার উপায় নেই যে সাত দিনের কঠোর লকডাউন চলছে। তবে মহাসড়কে পুলিশি চেকপোষ্টের টহল আর কঠোর অবস্থান প্রতিয়মান হলেও বাজার সংলঘ্ন ও এলাকার অলিগলিতে কোন অবস্থাতেই স্বাস্থ্যবিধির মানা হচ্ছে না। বিনা প্রয়োজনে সকলে বাইরে ঘোরাঘুরি করছে সবাই।
তবে মহাসড়কে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কঠোর অবস্থানে এই যানবহন গুলো নির্ধারিত গন্তব্য যেতে দেওয়া হয়নি। বরং লাইসেন্স, ডিএল, আর হেলমেট না থাকায় কঠোর লকডাউনের মধ্যে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার অপরাধে একাধিক মামলা দায়ের করেন উপ-পুলিশ পরিদর্শকগন। দৌলতপুর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ছাকেরা বানু বলেন, আমরা সকলেই জানি প্রতিদিনই খুলনার অবস্থা করোনা ভাইরাসে সংক্রমনের কারণে বিপদজনক অবস্থায় অবস্থান করছে। এ মতাবস্থায় কোন মতোই বিনাপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো এবং অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। আমাদের নিজের এবং পরিবারের কথা ভেবে সকলের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মাদ আলী বলেন, কঠোর লকডাউন দেওয়ার পরেও স্বাস্থ্যবিধির না মানার কারণে দূর্ভোগ আমরা নিজেরাই ডেকে আনছি। আমরা সচেতন হলে বার বার সরকারকে আর লকডাউন বা কঠোর বিধি নিষেধ দিতে হবে। সুতারং করোনা ভাইরাস হতে রক্ষা পেতে সকলের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত।
(ঊষার আলো-এমএনএস)
