UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নগরীতে অসুস্থ পশুর মাংস বিক্রি : চিহ্নিত কয়েকজন

koushikkln
মার্চ ১৩, ২০২২ ১০:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক :  খুলনা নগরীতে অহরহ বিক্রি হচ্ছে অসুস্থ্য ও রোগাক্রান্ত পশুর (গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ) মাংস। ভেড়ার মাংস বিক্রি করা হচ্ছে ছাগলের মাংস বলে। পশু জবাই করে যত্রতত্র মূলমূত্র ফেলার দায়ে পরিবেশ হচ্ছে দুষণ। নগরীর অধিকাংশ কসাইরা আইন কানুন তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছা স্বাধীন মত কাজ করছে। বেপরোয়া এসব পশুর মাংস বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান করে তাদের সঠিক পথে আনতে হিমশিম খাচ্ছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে নগরবাসী। এমনই ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে কেসিসির ভেটেরিনারি বিভাগের তদন্ত টিমে কাছে। তারই ধারাবাহিকতায় কেসিসি ওই সব পশুর মাংস বিক্রেতাদের নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে নগরীর মাত্র তিনটি স্পটে কসাইয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

স্পট তিনটি হলো নগরী বেনীবাবু রোডে হাতেম আলীর ছেলে রেজাউল কসাই, শান্তিধাম মোড়ের উকিল উদ্দীনের ছেলে মোহন কসাই, ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারের সামনের লাল কসাইয়ের ছেলে সাইদ কসাই ও একই বাজারের কালুর ছেলে সোহেল কসাই।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মার্চ সোমবার মাংস বিহীন দিবসে কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ডাঃ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শনে যান। এসময় টিমটি দেখেন, কসাইরা অসুস্থ্য ও রোগাক্রান্ত পশু জবাই করে বিক্রি করেছে। পশু জবাই করে রক্ত, গোবর ও অন্যান্য ময়লা আবর্জনা ড্রেনে ফেলে পরিবেশ দুষণ করছে। ছাগলের মাংসের লাইসেন্স গ্রহণ করে ভেড়ার মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। ওই তিনটি স্পট পরিদর্শন করে টিমটি এমনই চিত্র দেখতে পান। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এরমধ্যে তারা লংঘন করেছে, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১এর ৩,৫(১)(২), ৮(১) ও ১৫ ধারা। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ৫ম তফশিলের ৯২ ধারার (৩৮) উপধারা, ৭ম তফশিলের ধারা ১২১(২) এর (১৯) উপধারা, ৮ম তফশিলের ১২২(২) ধারা এর (১৬) উপধারা। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ৩৪ ধারা। এমতাবস্থা উল্লেখিত চার কসাইয়ের লাইসেন্স বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে ওই ধারায় কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী ১৫ মার্চ বেলা ১২টার মধ্যে ট্রেড ও প্রিমিসেস লাইসেন্সসহ নগরভবনের ভেটেরিনারি দপ্তরে স্ব শরীরে উপস্থিত হয়ে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। গত ৮ মার্চ কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ডাঃ রেজাউল করিম মাংস বিক্রেতাদের এ নোটিশ দেন।

একটি সূত্র জানায়, নগরীর গল্লামারি আর খালিশপুরে কেসিসির দু’টি কসাইখানা রয়েছে। এর বাইরেও কোন কোন কসাই অসুস্থ্য পশু জবাই করে বিক্রি করছে। বিশেষ করে দৌলতপুর বাজারের কসাইদের একটি অংশ মাংস আড়ংঘাটা গাইকুড়ে জবাই করে ওই মাংস বাজারে বিক্রি করছে। এছাড়া ফুলবাড়িগেটের কসাইদের একই অবস্থা। তারাও বেশীরভাগ কসাই স্থানীয়ভাবে পশু জবাই দিয়ে তা বাজারে এনে বিক্রি করছে। যা জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে রয়েছে। এ ব্যাপারে কেসিসির নজরদারী আরো বাড়ানো উচিত বলে নগরবাসী মনে করেন।

কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ডাঃ রেজাউল করিম বলেন, নগরীতে ১৭৫ জন মাংস বিক্রেতা (কসাই) রয়েছে। দোকানের সংখ্যাও ঠিক একই। সপ্তাহে প্রতি সোমবার মাংসবিহীন দিবসে নগরীর মাংসের দোকানে অভিযান পরিচালিত হয়। আইন অমান্য করার দায়ে বিগত দিনে একাধিক কসাই শাস্তির আওতায় আনা হয়। আইন মানার জন্য তাদেরকে বারবার বলা হচ্ছে। তাগাদা দেয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বুঝানো হচ্ছে। জরিমানা ও মাংস জব্দ করা হচ্ছে। তারপরও কোন কোন কসাই যেন বেপরোয়া।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুরাইয়া সাইদুন্নাহার বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের ব্যাপারে তার সংস্থার পক্ষ থেকে তদারকি করা হবে।

ঊষার আলো-খ/সু