ঊষার আলো প্রতিবেদক : কয়েক দিনের টানা গরম হ্রাস পেয়ে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার সাথে-সাথে শিশুদের বেড়ে চলেছে জ্বর-সর্দি কাঁশিসহ ডায়রিয়া। টানা গরম আর বৃষ্টি তথা বৈরী আবহাওয়ার দরুন নগরী জুড়ে বেড়েই চলছে শিশুদের নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিস, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ নানা রোগের প্রবনতা বলে জানিয়েছে অধিকাংশ শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা। নগরীর একাধিক এলাকার প্রায় প্রতিটি আবাসিক বাসা বাড়ির অধিকাংশ শিশুরা এখন এই জ্বর, সর্দি, কাশি আর ডায়রিয়ার ভুগছে। তবে বেশির ভাগ অভিভাবক খুলনা শিশু হাসপাতাল, বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক ও শিশু বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হলেও অধিকাংশই নিকটস্থ ঔষুধের ফার্মেসী হতে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে। হঠাৎ এ বৈরী আবহাওয়ার দরুন শিশুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে অভিভাবক মহল অনেকটাই দুঃচিন্তায় পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীতে প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদরে চেম্বারের শিশু রোগীর বেশ ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। গাজী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ বরকত আলী জানান, কয়েকদিনের গরমের কারণে শিশুদের অতিমাত্রায় তাপ শোধনের ফলে হিটস্ট্রোক হচ্ছে। এ ছাড়া বর্তমানে যে সকল শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে তাড়া অধিকাংশই জ্বর ও সর্দি, কাশিসহ ডায়রিয়ায় ভুগছে। তাছাড়া এমন আবহাওয়ার কারণে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিস, শ্বাসকষ্টসহ ডায়েরিয়া রোগে আক্রান্ত হবার প্রবণতা বেড়েছে। এসব রোগে আক্রান্ত হলে শিশুরা ঘন-ঘন নিঃশ্বাস নেয়। জ্বরের সঙ্গে খাবারে অরুচি থাকে এবং পালসও বেড়ে যায়। এসব শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারলে কোন সমস্যা হয় না বলেও জানান এ বিশেষজ্ঞ। তিনি আরো জানান, এ সময় অভিভাবকদের শংকিত বা ভীত না হয়ে এ সময় আক্রান্ত শিশুদের আরও বাড়তি যত্ন নেয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। কোন অবস্থাতেই নিজেদের খুশিমত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো উচিত নয়।
অপরদিকে নগরীর ফার্মেসীগুলোতে শিশু রোগের এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, মন্টিলুকাস্ট, কিটোটোফেনসহ লিভো সালভিউটামল ওষুধের চাহিদা বেশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কাজী মেডিকেল হলের মালিক ও বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি দৌলতপুর থানার সাঃ সম্পাদক কাজী লুৎফর রহমান মুকুল।
পাবলা বণিবপাড়া হতে দৌলতপুরে ঔষুধ কিনতে আসা অভিভাবক সীমা রানী জানান, তার বাচ্চা ২/৩ দিন হলো জ্বর সর্দিতে ভুগছে। মাঝে মাঝে শ্বাস কষ্ট হচ্ছে, তাই গ্যাস দিতে দৌলতপুরে আসছে বলে জানান। সবমিলিয়ে বৈরী আবহাওয়ার দরুন নগরী জুড়ে বেড়েছে শিশু রোগীর সংখ্যা। অধিকাংশই জ্বর, সর্দি, কাশি ডায়রিয়া রোগে ভূগছে।
(ঊষার আলো-এমএনএস)
