পারিবারিক শিক্ষা ও বিদ্যালয়ের দীক্ষা ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গড়ার শক্তিশালী হাতিয়ার। পরিবার থেকে পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা নিয়ে বিদ্যালয়ে তার চর্চা শুরু হলে শিশুরাই হয়ে উঠবে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সচেতন যোদ্ধা। জনউদ্যোগ, খুলনার আলোচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সোমবার বেলা ১১টায় ‘পারিবারিক শিক্ষা, বিদ্যালয় দীক্ষা—ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ, খুলনার আহ্বায়ক মানস রায়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব ও সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম, রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুর রহমান ও রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। বক্তব্য দেন সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ নাঈম জাহান, সিনিয়র শিক্ষক কুমারেশ চন্দ্র ঘরামী ও শিক্ষিকা স্মৃতি কণা দাসসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় শিশুদের উপযুক্ত পোশাক পরানো এবং দিনের বেলায় ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তারা আরও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ, খেলার মাঠ ও ছাদে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে। প্রাতঃসমাবেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, শিশুরা বাড়িতে মা-বাবাকে সচেতন করবে এবং বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের উদ্বুদ্ধ করবে—এভাবে পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ একসঙ্গে চললে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের সমাপনী স্লোগান ছিল, ‘ঘর রাখব পরিষ্কার, বিদ্যালয় রাখব পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গড়তে আমরা সবাই বদ্ধপরিকর।’
ঊআ- মোচৌ
