UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফুলতলার শান্ত-হাসনাত-তাছিন গ্রুপের হাতে খুন হন রোহান : গ্রেফতার ১

koushikkln
এপ্রিল ১, ২০২২ ৮:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক: ফুলতলায় প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজছাত্র সৈয়দ আলিফ রোহান হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (০১ এপ্রিল) নিহতের বাবা সৈয়দ আবু তাহের ৫জনের নাম উল্লেখ করে ফুলতলা থানায় এ মামলা করেন।

এদিকে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত দীপ্ত সাহা (২২) নামের এক আসামীকে গ্রেফতার করেছে। থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেল ৫ টায় ফুলতলা বাজারের বাসিন্দা দীপক সাহা’র পুত্র মামলার এজাহারভুক্ত আসামী দীপ্ত সাহাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

মামলার বাদি সৈয়দ আবু তাহের বলেন, গত ৩/৪দিন পূর্বে পায়গ্রামকসবা এলাকার একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে ওই কিশোর গ্যাং মেয়েদের ছবি তুললে ও উত্যক্ত করলে আমার পুত্র রোহান বাধা দেয়। এ ঘটনায় ঐ কিশোর গ্যাং রোহানের উপর ক্ষিপ্ত থাকে এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। বৃহস্পতিবার রোহান ক্লাস করতে কলেজে আসে। কলেজের দ্বিতীয় গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর পরই ফোনে খবর পেয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কিশোর গ্যাং এর ক্যাডাররা মটরসাইকেল যোগে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। অপরদিকে কলেজের পরিবেশ কমিটির সদস্যবৃন্দ বহিরাগত ক্যাডারদের ক্যাম্পাসে দেখতে পেয়ে অধ্যক্ষকে অবহিত করেন। তবে অধ্যক্ষ যথাসময়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ওই গ্যাং এর ক্যাডাররা নির্বিঘেœ রোহানকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তাজপুর গ্রামের দিকে চলে যায়।

ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইলিয়াস তালুকদার বলেন, ফুলতলার শান্ত-হাসনাত-তাছিন গ্রুপের সদস্যরা একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের প্রশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় কলেজ ছাত্র খুনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই গ্রুপের সদস্য দীপ্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে । বাকিদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত গ্রেফতারকৃত দীপ্ত সাহাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অগ্রগতি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ফুলতলা উপজেলার পায়গ্রাম কসবা গ্রামের সৈয়দ আবু তাহেরের পুত্র সৈয়দ আলিফ রোহান ফুলতলা এম এম কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের ছাত্র। কলেজ চালাকালীণ কয়েকজন মাদকাসক্ত দূর্বৃত্ত তাকে কলেজ গেটের সামনে ছুরিকাঘাতে মারাত্মক জখম করে পালিয়ে যায়। পরে, কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। গত বৃহঃস্পতিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের পোস্ট মর্টেম শেষে এশা বাদ পায়গ্রাম কসবা গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, প্রেমঘটিত কারণে এ হত্যাকান্ড হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে।