ঊষার আলো রিপোর্ট : নেত্রকোনা, মানিকগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৬ জন।মঙ্গলবার (১৮ মে) দুপুর থেকে বিকালের মধ্যে এ ঘটনাটি ঘটেছে। নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজী আব্দুর রহমান, মানকিগঞ্জ পৌরসভার স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. কবীর হোসেন ও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজির আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নেত্রকোনায় বজ্রপাতে নিহতরা হচ্ছে, মদন উপজেলার ফতেপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে হাফেজ মো. শরীফ (১৮) এবং মুছা মিয়ার ছেলে হাফেজ রবিন (১৭)। খালিয়াজুরী উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের ওসেফ মিয়া (৬৫), বিপুল মিয়া (৩২) এবং বাতুয়াইল গ্রামে একজন। তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। কেন্দুয়া উপজেলার কুন্ডুলী গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে কৃষক ফজলু মিয়া (৫৫) এবং পাইকুড়া ইউনিয়নের বৈরাটী গ্রামের আহসান খানের ছেলে বাচ্ছু খান (৪৫)। এছাড়াও, মানিকগঞ্জে আজমত আলী (৫০) নামের একজন দিনমজুর ও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে হাওরে মাছ মারতে গিয়ে বজ্রপাতে তাহের উদ্দিন (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নেত্রকোনার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টায় কেন্দুয়া উপজেলার ফজলু মিয়া বাড়ির পাশে সবজি ক্ষেতে কাজ করছিলেন। ওইসময় বজ্রসহ বৃষ্টি নামে। হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর তাকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, একই উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের বৈরাটী গ্রামের বাসিন্দা আহসান খানের ছেলে বাচ্ছু খান বৈরাটী আশ্রমের পাশের মাঠে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি নামলে বজ্রপাতে তিনিও গুরুতর আহত হন। এরপর তাকেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে ২ জন নিহত হন। এছাড়াও খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুরের হাওরে মাছ ধরার সময় ২ জন নিহত হন। এসময় আরও ৩ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক কাজী আব্দুর রহমান জানান, ‘বজ্রপাতে ৭ জন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। প্রত্যেকের পরিবারকে দশ হাজার করে টাকা প্রদান করার জন্য ওইসব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার স্থানীয় সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. কবীর হোসেন জানান, ‘নিহত আজমত আলী পৌলি এলাকার কৃষক আব্দুল হকের বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। আজ(মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ক্ষেত থেকে ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, আজ দুপুরে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বন্দেহরি হাওরের মাছ ধরতে যান তাহের উদ্দিন। তিনি বিকালে মাছ নিয়ে দোয়ারাবাজারের যাচ্ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
(ঊষার আলো-আরএম)
