আরিফুর রহমান,বাগেরহাট: বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় একটিমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে পরিচালনা পর্ষদ কমিটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ভোটার তালিকা তৈরী করে গোপণে উপজেলার রাধালক্ষ্মী নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এ ম্যানেজিং কমিটি গঠন করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক তরফা কমিটি গঠন করায় শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মামলার বাদী রাধালক্ষ্মী নি¤œ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চলমান সভাপতি ও পঙ্কজ কুমার মিস্ত্রী শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ওই বিদ্যালয়ে প্রকৃত ছাত্রী সংখ্যা মাত্র ৩৫ জন । অথচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস তাকে না জানিয়ে গোপণে ১২০ জন ভূয়া ছাত্রীর অভিভাবক ভোটার তালিকা তৈরী করে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসে দাখিল করেন। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রধান শিক্ষক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রিজাইডিং অফিসার বানিয়ে গত ১৭ এপ্রিল একতরফা বিনা ভোটে গোপণে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচিত দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে কমিটি অনুমোদনের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ছাত্রী অভিভাবক ধানসাগর গ্রামের বিজন মিস্ত্রী ও পিসি বারইখালী গ্রামের সাহেব আলী মুন্সি বলেন, সম্পূর্ণ গোপণীয়তায় ভূয়া ভোটার দেখিয়ে রাধালক্ষ¥ী স্কুলে কমিটি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ছাত্রী না থাকায় কিভাবে কমিটি গঠন হয় তা তদন্তের দাবি জানান অভিভাবকদ্বয়। গোপনে কমিটি করায় বিদ্যালয় সভাপতি পঙ্কজ কুমার মিস্ত্রী বাদী হয়ে ৬ জনকে বিবাদী করে গত বুধবার বাগেরহাট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা আমলে নিয়ে আদালত বুধবার প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ অন্য বিবাদীদের কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস তার বিদ্যালয়ে ১২০ জন ছাত্রী নেই ও ভুয়া ভোটার তালিকার কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারি নিয়ম পালনে কিছুটা অনিয়মের আশ্রয় নিতে হয়। আদালতে মামলা যখন হয়েছে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলবেন বলে ওই প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন।
শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নুরুজ্জামান খান বলেন, ভোটার তালিকা প্রণয়ণের দায়িত্ব তার নয়। প্রধান শিক্ষক চুড়ান্ত ভোটার তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে দাখিল করায় তিনি বিধিমতে কমিটি করে দিয়েছেন যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তার দায়দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের বলে ওই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান।
