UsharAlo logo
, |

হতাশায় দিন কাটছে দৌলতপুর ফুটপাত ব্যবসায়ীদের

ঊষার আলো
জুন ২৭, ২০২১ ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনা মহানগরীর বুকে অতি আদী একটি পুরাতন ঐতিহ্যবাহী বাজার হলো দৌলতপুর বাজার। দৌলতপুরের এই বাজার ফুটপাত আর খুলনা মহাসড়কের ফুটপাতে ব্যবসাকে ঘীরে এতদাঞ্চলের একাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা চলে, চলে রুটি-রুজি। ভিন্নি ভিন্ন ব্যবসা নিয়ে এ অঞ্চলের কয়েক শতাধীক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে ফুটপাতে বসে। বাজার সম্মুখে কেউ কাঁচা সবজি, কেউ বা মাছ, কেউ মৌসুমী ফল, কেউ কাপড়ের দোকান, কেউ প্রসাধণী সামগ্রী, কেউ জুতা বা প্লাস্টিক সেন্ডেল,বেল্টসহ নানান সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা করে আসছে। করোনার প্রভাব আর দীর্ঘ কঠোর বিধিনিষেধ ও কঠোর লকডাউনে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা দিশেহারা আর চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। কারণ করোনা ভাইরাসের প্রথম আর্বিভাবের সূচনা হতে বিভিন্ন সময়ের লকডাউন, কঠোর বিধিনিষেধ আর নিষেধাজ্ঞায় পড়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সর্বশান্ত। তাছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমনে বর্তমানে খুলনা বিভাগসহ জেলা ও মহানগরের অবস্থা চরম উধর্বমুখি হওয়ার দরুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমন নিয়ন্ত্রন আনার লক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসনের ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউন চলছে। যা ২৮ জুন শেষ হবে। কঠোর এ লকডাউনের নিষেধাজ্ঞায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ব্যতিত সকল দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশের দরুন ফুটপাথের কোন দোকান খোলা রাখতে দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন, যে কারণে দীর্ঘ সময় মহাসড়কের পাশে সহ বাজারের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা কোন অবস্থাতেই দোকানপাট খুলতে পারেনি। এ দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকায় তাদের আয়ের পথ সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া আবার নতুন করে সারা দেশ ব্যাপি আগামী ১ লা জুলাই হতে নতুন করে এক সপ্তাহ সর্বাত্বক লকডাউনে গোটা দৌলতপুর শহরের ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের চরম উৎকন্ঠা আর হতাশায় ফেলে দিয়েছে। সামনে কোরবানী ঈদ। এখন হতেই ঈদের খরচ-খরচার কথা ভেবে ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। আর প্রতিদিনের সংসার খরচ তো আছেই। সম্প্রতি লকডাউনের বেতাঘাতে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের সময় কাটছে চরম অনিশ্চয়তায় আর ঘোর অন্ধকারে। করোনার প্রকোপ যেন তাদের সর্বশান্ত করে তুলেছে।
দৌলতপুর কেসিসি’র মার্কেট সংলঘ্ন ফুটপাতে পানের দোকান জলিলের। গত ২২ জুন হতে আজ সাতদিনের মাথায় পা রেখেছেন। দোকান খুলতে পারেন না। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিতিনি। তার এই দোকানদারীর উপর দিয়ে চলে তার পরিবারের ভরণ-পোষণ। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসের শুরু হতে আজ পর্যন্ত অনেক কষ্টে আছি। কঠোর লকডাউনের মধ্যে দোকান খুলতে পারিনি। কারণ লকডাউনের নিষেধাজ্ঞায় দোকান খোলা যায়নি। এ দোকানের উপর নির্ভর করেই আমার সংসার চলে। আজ এক সপ্তাহ সম্পূর্ন কর্মহীন হয়ে বসে আছি। বসে বসে গচ্ছিত টাকা ভেঙে খেলে রাজার ভান্ডারও ফুরিয়ে যায়। লকডাউনের প্রভাবে অনেক কষ্টে আছি। দৌলতপুর ফুটপাতের প্রসাধনী ব্যবসায়ী পলাশ, ফুটপাতে চৌকি পেতে ৫ টাকা হতে ৩০ পর্যন্ত বিভিন্ন রকমারী মালামাল বিক্রি করেন। তিনি জানান, লকডাউনের কারণে দোকান সম্পূর্ন বন্ধ, প্রশাসন খুলতে দেয়না, কারণ দোকানে ভীড় হবে তাই। এমন দীর্ঘ সময় ব্যবসা বন্ধ থাকলে মাঠে মারা যাবো বলে জানান এ ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিবারের ভরণ-পোষন জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছি। জানিনা সামনের দিনগুলো কেমন যাবে? কারণ দিনকে দিন করোনার পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে।
রেল লাইনের ফুটপাত ব্যবসায়ী এনামুল, বাচ্চাদের পোশাক নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াইয়ে হার মেনে গিয়েছেন। কারণ কেনাবেচা না থাকার দরুন অবশেষে তাকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হয়েছে। কারণ কতদিন আর দোকান বন্ধ রাখা যায়। বাস্তহারার কাপড় ব্যবসায়ী আরিফ। খালিশপুর পিপলস্ জুট মিলে তাঁত ডিপার্টমেন্টে বদলী কাজ করে সংসার চালাতো। মিল বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বহু কষ্টে আর ধার দিনা করে অবশেষে ঢাকা ধরে কাটা সিট কাপড় কিনে এনে ফুটপাথে বসে বিক্রি করছিল, দীর্ঘ সময় কঠোর লকডাউনের মুখে তার দোকান বন্ধ। তিনি জানান, পরিবারের ভরণ-পোষন জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছি। কোনো কেনাবেচা নেই, জানিনা সামনের দিনগুলো কেমন যাবে?
ফুটপাত ব্যবসায়ী রফিক জানান, করোনার কারণে সারাক্ষনই পুলিশের দাবড়ের মুখে থাকি। আর লকডাউনের মধ্যে তো কথা নেই। দিনের বেলায় দোকান বন্ধ। রাতে যদিও প্রশাসনের লোকের চোখ ফাকি দিয়ে দোকান কিছু সময়ের জন্য খুলি তারপরও প্রশাসনের লোক এসে দোকান বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, আমরা নিন্ম আয়ের মানুষ। এই দোকানের উপর দিয়েই আমার সংসার চলে। দোকান খুলতে না পারলে সংসারের খরচ যোগাড় হয়না। এভাবে আর কতদিন চলবো?
সবমিলিয়ে বর্তমানে কঠোর লকডাউনের প্রভাবে দৌলতপুরের ফুতপাতের ব্যবসায়ীরা চরম উৎকন্ঠা আর হতাশায় দিন নিপেতিত করছে। করোনা প্রভাবে দীর্ঘ লকডাউন ব্যবসায়ীদের করে তুলেছে সর্বশান্ত, তারা নিজ পরিবারের ভরণ-পোষন যোগাতে বর্তমানে হিমহিম খাচ্ছে।
(ঊষার আলো-এমএনএস)