খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ শেখ সাদী ভূঁঞার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে চারুকলা স্কুলের আঙিনায় স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রয়াত এই শিল্পীর সৃষ্টিশীল অবদান ও মানবিক গুণাবলির কথা স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান।
স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, “শেখ সাদী ভূঁঞা ছিলেন সহজ-সরল এবং মানবিক গুণে সমৃদ্ধ একজন শিল্পী। শিল্পীর মৃত্যু হলেও শিল্প কখনও মরে না। তাঁর কর্ম ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।”
সভাপতিত্ব করেন ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের প্রধান শান্তনু মণ্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের প্রধান (চলতি দায়িত্ব) ড. আবু কালাম শামসুদ্দিন এবং প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. নিহার রঞ্জন সিংহ। স্বাগত বক্তব্য দেন ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আমিনূল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত শিল্পীর সহধর্মিণী কামরুন নাহার আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন। অ্যালামনাইদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন প্রিতম রায় এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ২০২১ ব্যাচের অর্ণব সাহা হৃদয়।
বক্তারা বলেন, শেখ সাদী ভূঁঞা খুলনা অঞ্চলের শিল্পচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। ভাস্কর্য শিল্পে তাঁর সৃষ্টিকর্ম ও বিভিন্ন গ্রন্থ তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি ছিলেন আত্মকেন্দ্রিকতাবর্জিত, সমাজবন্ধু এবং শিশুপ্রেমী একজন মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে শিল্পাঙ্গণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ হওয়ার নয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সৃজনশীলতা পৌঁছে দিতে তাঁর শিল্পকর্ম সংরক্ষণ জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন তারা।
স্মরণ সভার আগে তাঁর শিল্পকর্ম সংরক্ষণের জন্য একটি সংগ্রহশালা উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠিত হয় শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, কর্মশালা এবং তাঁর কর্মমুখর জীবনের ওপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী। শুরুতে প্রয়াত শিল্পীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চারুকলা স্কুলভুক্ত বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যালামনাইরা উপস্থিত ছিলেন।
ঊআ-মোহন চৌধুরী
