আশুলিয়ার জামগড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও স্বজনদের উৎকণ্ঠা কাটেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর কাভার্ডভ্যান থেকে একে একে লাশ উদ্ধার করা হয়।
কয়েকটি লাশের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে রাতভর হাসপাতাল, ঘটনাস্থল ও মর্গের আশপাশে স্বজনদের অপেক্ষা করতে হয়েছে।
কারও হাতে ছিল নিখোঁজ স্বজনের ছবি। কেউ ফোনে খবর পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কেউ হাসপাতালের এক দরজা থেকে অন্য দরজায় ছুটে বেড়াচ্ছিলেন। প্রত্যেকের মনে ছিল একই প্রশ্ন—প্রিয় মানুষটি কোথায়?
রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যেই সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে গিয়ে স্বজনদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। তাদের কাছে নিহতের সংখ্যা শুধু একটি সংখ্যা নয়। প্রত্যেক নিহত ব্যক্তি ছিলেন কারও বাবা, মা, স্বামী, সন্তান কিংবা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
কেউ বাবার খোঁজে হাসপাতালে এসেছেন, কেউ মায়ের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। আবার কেউ প্রিয়জনের কোনো খবর পাওয়ার আশায় রাত পার করেছেন।
একটি বিস্ফোরণের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও স্বজনদের জন্য সেই রাত ছিল অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষায় ভরা। প্রিয় মানুষটির ভাগ্যে কী ঘটেছে, সেই উত্তর পাওয়ার জন্য হাসপাতাল ও মর্গের আশপাশে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম আজ দুপুরে বলেন, এ ঘটনায় সাতজন মারা গেছেন। মোসাম্মাৎ জয়নব (৫৫), বুলবুল হেসেন (৪৫), নজরুল ইসলাম (৪২) নামে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। সকালে ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে পুলিশ। তবে কোনোপক্ষ মামলার আবেদন করেনি।
ফায়ার সার্ভিসের সাভার জোনের ইনচার্জ হাফিজুর রহমান জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো কারখানা চত্বর ও এর আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় লরির ভেতর ও নিচ থেকে পাঁচজনসহ মোট সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত ৪০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, যেভাবে সিলিন্ডারগুলো লোকালি লোড করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ।
ঊষার আলো-এসএ
