ভারতের বেঙ্গালুরুতে মেট্রোরেলে গোপনে মোবাইল ফোনে এক নারীর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী ফোন দেখতে চাইলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত যুবক।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এনডিটিভির খবরে জানানো হয়, এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখনো তাকে শনাক্ত বা গ্রেফতার করা যায়নি।
ইনস্টাগ্রামে ‘সৌপিকা’ নামে পরিচিত ওই নারী নিজেকে ভ্রমণ ও জীবনধারাবিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দেন। তার অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ডের কাদুগোডি রোডের কাছে মেট্রোতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে সৌপিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি এক ব্যক্তিকে মেট্রোর মধ্যে হাতেনাতে ধরেছি, যে আমার ভিডিও ধারণ করছিল।’ ভিডিওতে তাকে দৃশ্যত আতঙ্কিত দেখা যায়। তিনি বলেন, সে সময় তার শরীর পুরোপুরি ঢাকা ছিল। তার পোশাকের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভিডিওতে দেখা যায়, সৌপিকা নিজের ফোন তুলে ধরে বারবার ওই ব্যক্তির কাছে জানতে চাইছেন, কেন তিনি তার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তিনি লোকটিকে ফোন আনলক করতে বলেন। জবাবে ওই ব্যক্তি ফোন খুলে দেখাবেন বলে জানান।
মেট্রোর লিফটে সৌপিকা তাকে বলেন, তিনি ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবেন। এ সময় ওই ব্যক্তি ‘আমি দুঃখিত’ বলেন। তবে এর অর্থ তিনি ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে নিজের ফোনটি নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এ সময় সৌপিকা তাকে বারবার ফোন খুলে দেখানোর অনুরোধ করছিলেন।
সৌপিকার দাবি, তিনি ওই ব্যক্তির ফোনটি হাতে নিয়ে মেট্রোর নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রেনটি একটি স্টেশনে থামার পর লোকটি ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি তার ব্যাগ নিয়েও পালিয়েছিলেন। পরে তিনি ধাওয়া করে ব্যাগটি উদ্ধার করেন। অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দাদের সহায়তাও চেয়েছেন তিনি।
সৌপিকা জানান, তিনি মেট্রো স্টেশনেও অভিযোগ করেছিলেন। সেখানে কর্মকর্তারা তাকে সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পুলিশ তাকে ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান জানাতে এবং ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের নম্বর পাঠাতে বলে। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, এ ঘটনায় এফআইআর করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
পরবর্তী একটি ভিডিওতে সৌপিকা জানান, তিনি কাদুগোডি থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে পুলিশ তার অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির সঙ্গে চেহারায় মিল রয়েছে, এমন কয়েকজনকে শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শতভাগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঊষার আলো-এসএ
