পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আরোপিত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে সার্বক্ষনিক তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিশেষ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী দিনে এবং রাতে সব সময় তৎপর রয়েছেন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে। বিধিনিষেধ কার্যকর করতে কখনো তিনি কঠোর হচ্ছেন, কখনো আবার মানবিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। সচরাচর দিনের বেলায় কড়াকড়ি আরোপ করারপর রাতে স্বাভাবিক ভাবেই একটু সিথিল করা হয় অভিযান। এ সুযোগে অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্তা দিনে কিংবা রাতে কোন ভাবেই যেন ছাড় দিতে নারাজ। কঠোর বিধিনিষেধ তো কঠোর বিধিনিষেধ। এখানে রাত কিংবা দিনের মধ্যে কোন তফাত বা ব্যবধান নেই। প্রতিদিন তিনি উপজেলার এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে ছুটে চলেছেন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে। কখনো তিনি থানা পুলিশের সহযোগিতা নিচ্ছেন, কখনো আবার আনসার ও ভিডিপি, কখনো আবার সাথে নিচ্ছেন সিপিপি সদস্যদের। নিজেই ড্রাইভ করে বাস্তবায়ন করছেন বিধিনিষেধ কার্যকর করার সকল কার্যক্রম। শুধু যে বিধিনিষেধ কার্যকর করতে কঠোর হচ্ছেন তা নয়। যখন কোথাও অভিযানে যাচ্ছেন গাড়ী ভরে সাথে করে নিয়ে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা। বিধিনিষেধ কার্যকর করার পাশাপাশি আরোপিত এ বিধিনিষেধের মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন যে সব শ্রমজীবী মানুষ তাদের কাছে পৌছে দিচ্ছেন মানবিক সহায়তা হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী। বিধিনিষেধ আরোপের ৪র্থ দিন শুক্রবারও তিনি দিনভর উপজেলা সদর ও বাঁকা বাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও মানবিক সহায়তা বিতরণ করেন। এরআগে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি হাসপাতাল মোড়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় মেহের নামের এক ব্যবসায়ীকে তাৎক্ষনিকভাবে ৩ দিনের জেল প্রদান করেন। বিধিনিষেধ কার্যকর করতে একদিকে যেমন জেল জরিমানা অব্যাহত রেখেছেন, অপরদিকে কর্মহীন শ্রমজীবীদের মাঝে অব্যাহত রেখেছেন মানবিক সহায়তা প্রদান। উল্লেখ্য এলাকায় করোনার প্রদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা প্রশাসন ২২ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত খুলনা জেলা ও মহানগরীতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। আরোপিত এ বিধিনিষেধ কার্যকর করতে গিয়ে ইউএনও এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী কখনো হচ্ছেন কঠোর, কখনো আবার মানবিক।
(ঊষার আলো-বেমএনএস)
