UsharAlo logo
, |

নার্স বদলি-বাণিজ্যের তদন্ত ও শতকোটি টাকা ফেরতের রিট শুনানি ২টায়

ঊষার আলো
এপ্রিল ১৮, ২০২২ ১:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো রিপোর্ট : দেশের সব হাসপাতালে নার্স বদলি,টাকা লেনদেন, বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করতে এবং বদলি বাণিজ্যে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনের বিষয়ে শুনানি হবে দুপুর ২টায়।সোমবার (১৮ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানির জন্যে কার্যতালিকায় রয়েছে।বিষয়টি ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব নিশ্চিত করেছেন।এর আগে এ সংক্রান্ত রিট আবেদন করা হয়।

একই সঙ্গে বদলি বাণিজ্যে লেনদেন হওয়া ১০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার আর্জি জানানো হয় রিটে।পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রোববার (১০ এপ্রিল) ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের এই রিট করেন।

রিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের অভিযুক্ত মো. জামাল উদ্দিনকে এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী বলেন, রিটে দেশের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশাকে রক্ষার জন্য আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া নার্সদের বদলিতে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য স্বাস্থ্যসচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।পাশপাশি বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করে অবৈধ সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলা হয়েছে।

দুদুক কর্তৃক তদন্ত করে ঘুস গ্রহণকারী ব্যক্তিদের নিকট থেকে টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী নার্সদের ফেরত প্রদানের জন্য বলা হয়েছে রিটেএকই সঙ্গে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বদলি বাণিজ্যের হোতা মো. জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে রিট আবেদনে।

ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব জানান, বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচারের পরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা দুর্নীতি দমন কমিশন এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে নার্স পেশা হুমকির মুখে পড়ছে। হাজার হাজার নার্সের নিকট থেকে অবৈধভাবে ঘুসবাণিজ্য করে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।তিনি বলেন, দুর্নীতি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের সংবিধানস্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। এছাড়া সংশ্লিষ্ট নার্সদের পেশার স্বাধীনতা সংবিধানস্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার।

বদলির জন্য নার্সদের টাকা প্রদানে বাধ্য করা এবং তাদের নিকট থেকে ঘুস গ্রহণ করা নার্সদের মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। কাজেই যারা বদলির জন্য টাকা প্রদান করেছেন, উক্ত টাকা ফেরত পাওয়া তাদের আইনসম্মত অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।নার্সদের বদলি বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়,

দেশের হাসপাতালগুলোতে হাজার হাজার নার্স কর্মরত রয়েছেন।এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পেশাগতভাবে বদলি চাকরির একটি স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সেই পেশাগত বদলি হয়ে উঠেছে নার্স পেশার একটি আতঙ্কের নাম। প্রত্যেক নার্সকে প্রতিবার বদলির জন্য গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর এই বদলি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে একটি বিশাল সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে তাদের আত্মীয়স্বজন।

গত বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর তিন মাসে প্রায় চার হাজার নার্সকে বদলি করা হয়েছে। সেই বদলির মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইভ ফাউন্ডেশনের পক্ষে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের। ওই লিগ্যাল নোটিশের পর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এই রিট করা হয়।

ঊষার আলো-এসএ