মো. আশিকুর রহমান : খুলনা মহানগরের ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রেখেছে ভ্রাম্যমান, ভাসমান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এসব ব্যবসায়ীরা অস্থায়ী নামের স্থায়ী দোকানপাট। এমন দখলে উধাও যেন ফুটপাত! তবে ঈদকে সামনে রেখে আরো নড়ে চড়ে বসছেন। নিচ্ছেন নানা ব্যবসার পরিকল্পনা। এই দখল করা ফুটপাতের প্রভাব পড়ছে মূল সড়কেও। ক্রমশ শহর জুড়ে যানবহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, তবে সেই তুলনায় শহরের রাস্তাগুলো হচ্ছে প্রশস্ত হচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত শহরের মধ্যে দাপিয়ে বেড়ানো অটোরিক্সা, সিএনজি, মাহেন্দ্রে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আর স্বাভাবিক গতিতে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। তাই ভোগান্তি কমাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ জরুরী বলে করছেন নগরবাসী।
সরেজমিন বুধবার (০৬ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শপিংমল, মার্কেট ও বিপণী বিতানের স্থান ঘুরে দেখা যায় গেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। নগরীর ডাকবাংলা হকার্স মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট, শপিংকমপ্লেক্স, বড়বাজার, ক্লে রোড, নিউমার্কেট, জলিল টাওয়ার, এশা চেম্বার, আবুল বাদ্রার্স, খালিশপুর, দৌলতপুর, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমনি, ফলতলা সহ শহরের বিভিন্ন প্রাণকেন্দ্রে ভ্রাম্যমান ভ্যান গাড়িতে করে সড়ক দখল বিক্রি করছে নানা ধরণের ব্যবসা।
এছাড়া স্যার ইকবাল রোড, কেডি ঘোষ রোড, ক্লে রোড, হেলাতলা রোড, পুরাতন যশোর রোড, পিকচার প্যালেস মোড় থেকে হাদিস পার্ক পর্যন্ত, কালীবাড়ী রোড, কেডিএ এ্যাভিনিউ, ফারাজী পাড়া মেইন রোড, মজিদ সরণি, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে গল্লামারী পর্যন্ত, গল্লামারী বাইপাস রোড, খালিশপুরের বিআইডিসি রোড, কদমতলা মোড় থেকে গাবতলা পর্যন্ত, দৌলতপুরের বিএল কলেজ মোড় থেকে মহসিন স্কুল মোড় পর্যন্ত, বিজেএ ভবন সম্মুখ, সড়কের দুই পাশে ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন ধরণের মালামাল নিয়ে ব্যবসা খুলে বসেছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী।
নগরীর বড়বাজার এলাকার ক্লে রোড, হেলাতলা রোড, স্টেশন রোড, পুরাতন যশোর রোড ও কেডি ঘোষ রোডের দুই পাশের সড়কের ফুটপাত এবং ফুটপাতসংলগ্ন সড়কের ওপর কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল, বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র, ফলের দোকান, মনিহারি সামগ্রী, টি-স্টল, খাবারের দোকান, ঘড়ির বিক্রয় বা মেরামতের দোকান, মাছ-তরকারিসহ বিভিন্ন ধরণের মালামাল নিয়ে ফুটপাত দখল করে দিব্যি ব্যবসা চলছে।
খালিশপুরের ব্যস্ততম সড়ক বিআইডিসি রোডসহ দৌলতপুরস্থ খুলনা যশোর মহাসড়কের দুই পাশে স’মিল মালিকরা ফুটপাত দখল করে গাছের গুঁড়ি ও কাঠ রেখে ব্যবসা করছেন। গাবতলা মোড় থেকে নতুন রাস্তা মোড় পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে ব্যবসা করছেন। দৌলতপুরে বাসস্ট্যান্ড এলাকার সড়কের ফুটপাত দখল করে চলেছে নানা ধরণের ব্যবসা। ব্যস্ততম এসব সড়কের ফুটপাত ও সড়কের অংশবিশেষ দখল হওয়ায় যানবাহন ও পথচারী চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নগরীর এসব সড়ক অত্যন্ত ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে বিবেচিত। এ সড়কগুলো দিয়ে খুলনা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, পরিদপ্তর, অফিস-আদালত, সরকারি-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই শতশত বিভিন্ন যানবাহন ও হাজারো পথচারী চলাচল করে। ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, যানজটে পড়ছে নগরবাসী।
সূত্রে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন দোকানের সামনে যে ফুটপাত থাকে দোকান মালিক তার সামনের ফুটপাত দখল করে পান-বিড়ি বা অন্যকোন ব্যবসায়ী দৈনিক ভাড়া হিসাবে বসিয়ে দিচ্ছে। এভাবেই শহর জুড়ে রাস্তার জায়গায় বিভিন্ন মহল সিন্ডিকেট করে দখল করছে আর সাধারন মানুষের নিকট হতে হাতিয়ে নিচ্ছে মাসআয়া। মাসোআয়ার পরিমান বাড়ার সাথে সাথেই বাড়ছে সিন্ডিকেট দখলদার।
ডাকবাংলার ফুটপাতের পোশাক বিক্রেতা সালাম জানান, ফুটপাত ব্যবসায়ীরা তাদের সামনের বা পেছনের বড় দোকানমালিকদের প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছেন। গরীব হিসাবে এটাই অনেক প্রাপ্তি। বর্তমানে টাকা হলেও জায়গা মেলেনা। আমাদের তো আর বড় অংকের টাকা নেই যে ভেতরে পজিশন নিয়ে দোকান করে বসবো তাই, ঈদের জন্য সামনে বাড়তি ভাড়া দিয়ে হলেও কেনাবেচা করছি।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন জানান, ফুটপাত দখলদারদের ব্যাপারে আমাদের অভিযান নিয়মিত অব্যহত থাকে। এটা যারা করে তাদের মূল্যবোধের অভাব। কারণ সড়কদিয়ে সাধারণ মানুষ সহ যানবহন চলাচল করে। কোনো অবস্থাতেই জনগনের চলাচলে বিঘœ ঘটানো যাবে। যে বা যারা এ কাজে লিপ্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা করা হবে।
কেএমপি ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) জানান, নগরীকে যানজটমুক্ত ও অবৈধ ফুটপাত দখলার ব্যাপারে নিয়মিত কাছ করে যাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। যানজটমুক্ত আর নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেওয়ায় ট্রাফিক বিভাগের প্রধান লক্ষ্য। সামনে ঈদ ঘিরে নগরীতে চলেছে ফুটপাত দখলের মহড়া। ট্রাফিক বিভাগের পাশাপাশি কেসিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে যানজট নিরাসন ও স্বাভাবিক জনচলাচলে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
