ঊষার আলো রিপোর্ট : ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। আর মাত্র একদিন পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। নতুন পোশাক পরে আতর-সুরমা মেখে মুসল্লিরা যাবেন ঈদগাহে। একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করবেন। কিন্তু ঈদের এসব আনন্দ কালবৈশাখী ঘূর্ণিঝড় উড়িয়ে নিয়ে গেছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামবাসীর।
রোববার (১ মে) সকালে উপজেলার কুশদহ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে কালবৈশাখী ঘূর্ণিঝড় হানা দেয় এই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে। ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় গ্রামগুলোর সব কিছু। প্রায় দুই’শ পাকা, আধপাকা ঘর ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। পাশাপাশি অনেক গবাদিপশুও নিহত হয় এই ঘূর্ণিঝড়ে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক। আহত গ্রামবাসীকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন তিনি। অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ান, নগদ অর্থ দেন। পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থা করেন তিনি।
মাহতাপাড়া গ্রামের নাছিমা বেগম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে হামার সব উড়ে নিয়ে গেইছে বাহে। হামার বাড়িঘর বেবাক ভাঙে পড়িছে। হামার এমপি সাহেব খুবি ভাল মানুষ, ঝড়ের দিন খবর পেয়ে রাতেই ছুটে আইছে। চিকিৎসা দিছে, খাবার, টাকা ও ঔষধ দিছে হামাক।’
সাবেদগঞ্জ গ্রামের সাইফুল ইসলামবলেন, গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় উঠে। গ্রামের প্রায় সব মানুষ ঘুমিয়ে ছিলো, এই ঝড়ে গ্রামের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বাড়ি-ঘর ভেঙে গেছে। আর একদিন পর ঈদ, কিন্তু গ্রামের মানুষের মনে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। এসব আনন্দ কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে গেছে আমাদের।
দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, মঙ্গলবার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে কুশদহ ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি ঐ দিন রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আহত গ্রামবাসীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। তৎক্ষণাৎ অসহায় গ্রামবাসীদের খাবার সরবরাহ এবং নগদ অর্থ বিতারণ করি। এছাড়াও তাদের থাকার জন্য গ্রামে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
ঊষার আলো-এসএ
