UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খালিশপুর জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউটের ২৭টি দোকান ১০ দিন তালাবদ্ধ

koushikkln
এপ্রিল ২৯, ২০২২ ১০:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খালিশপুর জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউটের মডেল শপিং কমপ্লেক্সের ২৭টি দোকান ঈদের মাত্র ১২ দিন আগে পাটকল শ্রমিক নেতাদের নেতৃত্বে বন্ধ করে দেয়ার চরম উৎকন্ঠা আর অনিশ্চয়তেদর মধ্যে দিন যাপন করছে এসব ব্যবসায়ী ও তার পরিাবরের সদস্যরা। এদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা দেয়া, ব্যবসায়ীদের মারধর, লুটপাট ও হুমকি ধামকির অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষে শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে জুট ওয়ার্কার্স ইনষ্টিটিটের সভাপতি ও সাঃ সম্পাদকসহ ১৪ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার নং-সিআর-৯৩/২২। তাং-২৬,০৪,২২ইং। আসামীরা হলো ইনস্টিটিউটের সভাপতি মুরাদ হোসেন, সাঃ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, কোষাধ্যক্ষ মনির হোসেন, সহকারি কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম জিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন। অভিযোগটি আদালত আমলে নিয়ে তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ওসি খালিশপুর থানাকে। ওই তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৯ জুন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।

ইনস্টিটিউটের সভাপতিসহ ১৪জনকে

আসামী করে মামলা দায়ের

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নগরীর খালিশপুর জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউট মাঠের উত্তর সীমানায় নব নির্মিত ভবনের নীচতলার ২৭টি দোকান ঘর বাদীসহ মোট ২৭ জন লোক দোকান ঘর ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী এককালিন জামানত ও মাসিক ভাড়া শর্তে দোকান ভাড়া নেন। বাদীসহ প্রত্যেকে ভাড়াটিয়া ইনষ্টিটিউটের সভাপতি, সেক্রেটারি ও কোষাধ্যক্ষকে ২০০৭ ও ২০০৯ সাল থেকে নিয়মিত ভাড়া প্রদান করেন।

খালিশপুরের ৫টি জুট মিল ২০২০ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউটের কার্যকারীতা না থাকায় দীর্ঘ দিন ভাড়া গ্রহণের রশিদ প্রদান না করায় দোকানদাররা সমস্যায় পড়ে যায়। পরে ২৭ জন ভাড়াটিয়া বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আদালত এবং সদর সিনিয়র সহকারি জজ আদালত খুলনাতে মিস ৫৪/২১ মামলা করে বাড়ী ভাড়া আদালতে প্রদান করে আসছেন। ইতোমধ্যে বাদীসহ সকল ভাড়াটিয়া জানতে পারে যে, জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউট জমির প্রকুত মালিক নহে। এই জমি সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের অর্ন্তভুক্ত। এ ব্যাপারে ভাড়াটিয়ারা জেলা প্রশাসকের নিকট দরখাস্ত দেন। এতে আসামীরা ক্ষীপ্ত হয়ে ৩০/৪০ জন ব্যক্তি এসে গত ২০ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টায় বাদীসহ অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের কিছু না জানিয়ে দোকান খুলে দোকানের মালামাল লুটপাট করে নেয়। এ সময় তারা দোকানে তালাবদ্ধ করে দেয় এবং পুরো মার্কেটের প্রবেশ গেটের তালা ঝালাই মেশিন দিয়ে ঝালাই করে দেয়। খবর পেয়ে বাদীসহ অন্যান্য ভাড়াটিয়া দোকানের সামনে এলে এবং তালা মারার কারণ জিজ্ঞাসা করলে আসামীরা তাদের কিল ঘুষি মারতে থাকে। অন্যান্যরা ঠেকাতে গেলে তাদেরও মারধর করে। এ সময় আসামীরা বাদীসহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বলে, “আবার এখানে আসলে জানে মেরে ফেলবো। এই দোকানে যা যা আছে সব আমাদের।” এ সময় বাদীসহ ব্যবসায়ীরা জীবনের নিারপত্তার অভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ব্যাপারে খালিশপুর থানায় গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করার কথা জানায়। অবশেষে ব্যবসায়ীরা মহানগর হাকিমের আমলী (অঞ্চল খালিশপুর ) আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখিত আসামীরা অবৈধ জনতাবদ্ধে বাদীসহ সকল দোকানীদের মালামাল লুটপাট করে অবৈধভাবে জোরপূর্বক দোকান ভাড়াটিয়াদের দোকান তালাবদ্ধ করতঃ গুরুতর ও সাধারণ জখমসহ আহত করে ভয়ভীতি দেখানোর দায়ে দন্ডবিধি আইনের ১৪৩/৪৪৭/১৪৭/৩৪১/৩৪৩/৩৯২/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৫০২ ধারার অপরাধ করেছে।

এদিকে বাদী জানান, তারা কঠিন উৎকন্ঠা আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছেন। সবার ঘরে ঈদ আনন্দ থাকলেও তাদের ২৭টি পরিবারে নেই কোন ঈদ আনন্দ। গত দু’ বছর করেনায় সব শেষ করে দিয়েছে। তার ওপর পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিক শূন্য খালিশপুরে বেচাবিক্রি নেই বললেই চলে। সেখানে এই ঈদে বেচাবিক্রি করে কিছু পুষিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখছিলাম। তা তো শ্রমিক নেতারা দুঃস্বপ্ন করে দিল।

অপর দোকানদার শরিফুল ইসলাম জানান, মোটা অংকের ঋণ নিয়ে ঈদের আগে মালামাল কিনে দোকান ভরে রাখি। ঈদের সময় তা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবো নিজেরাও লাভবান হবো। কিন্তু সব কিছুই শেষ হয়ে গেল এই দখলদার শ্রমিক নেতাদের কারণে। এসব শ্রমিক নেতারা জমির মালিক নয়, অথচ তারা ছয়-নয় করে দীর্ঘ দিন ধরে তাদের কাছ থেকে ভাড়াসহ নানা সুবিধা ভোগ করে আসছিল। আমরা সরকারকে ভাড়া দিয়ে আসছি। এ জন্য এসব নেতারা ক্ষুব্দ হয়ে তাদের মার্কেট তালা মেরে দিয়েছে। আরেক দোকানদার মনির হোসনে জানান, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ঈদের আগে মালামাল দোকান ভর্তি করেন। কিস্তু ওই মালামাল বিক্রি করতে না পারলে তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। পথে বসতে হবে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হবে। মার্কেটের এ অবস্থায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিগগিরই মার্কেটটি খুলে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট জোর দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, মার্কেট বন্ধ করে দেয়ার পর জুতার দোকানদার মনির ও আরএফএল’র মোস্তাক অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তারা লাখ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল তুলেছে। এগুলো ঈদে বিক্রি করার আশায়। কিন্তু মার্কেট তালাবদ্ধ করায় সব কিছু শেষ হয়ে গেল বলে তিনি জানান।

জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউটের নেতা মিজানুর রহমান মানিক বলেন, জমি ও দোকানঘর তাদের, কিন্তু আন্দোনকারী ব্যবসায়ীরা তাদের ভাড়া না দিয়ে আদালতে দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শালিস দরবার হলেও এসব দোকানদাররা তা আমলে নেয়নি। অবশেষে তারা বাধ্য হয়ে মার্কেটে তালা মেরেছেন। তবে তাদের সাথে নতুন করে ভাড়া নেয়ার চুক্তি করায় ইতোমধ্যে চটপট্টিসহ চারটি দোকান খুলে দেয়া হয়েছে। বাকীগুলো তাদের শর্তে রাজি হলে খুলে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।