মোঃ আশিকুর রহমান : পবিত্র মাহে রমজান মাস চলছে। মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত মুসলমানদের জন্য বাড়ীতে মুনাফা আদায়ের এক অপরিসীম মাস রমজান। তাহবির, সেহরী, ইফতার, নফল ইবাদত সব কিছুই মধ্যেই জন্য একটু স্বস্তি আর আনন্দের আলাদ স্বাদ খুঁজে পান মুসলিম উম্মেহা। তবে দোয়া কবুলের সময় ইফতার সামনে নিয়ে বসতে সকলের আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সম্পূর্ণ সিয়ামের মাস অধিংকাশের বাড়িতে চলে ইফতারির নানা আয়োজনে ইফতারি তৈরী। আবার অনেকেই শহরের নামি দামি রেস্টুরেন্ট বা হোটেল হতে পরিবারের জন্য ক্রয় করে নিয়ে যায় ইফতারি। যে কারণে সমগ্র রমজান জুড়ে ব্যস্ততম নগরী খুলনাতে চলে ইফতারি বিক্রির ধুম।
প্রতিদিনই দুপুরের পর থেকেই খুলনা মহানগরীর ইফতারির দোকানগুলোতে ভিড় জমতে শুরু করে। সময় যত গড়াতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম। জমে ওঠে থরে থরে সাজানো রকমারি ইফতারের বেচাকেনা ধুম।
সরেজমিনে সোমবার (১১ এপ্রিল), খুলনা মহানগরীর ডাক বাংলা মোড়, সোনালী ব্যাংক চত্বর, ফেরিঘাট মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, ময়লাপোতা মোড়, নিরালা, গল্লামারি, জিরোপয়েন্ট, সোনাডাঙ্গা, শিববাড়ি ,পশ্চিম রূপসা ঘাট মোড়, রয়্যাল মোড়, বয়রা, রায়েরমহল, মোস্তর মোড়, বাস্তহারা, কবিরবটতলা, নতুনরাস্তা, খালিশপুর, জোড়াগেট, দৌলতপুর, রেলিগেট, মানিকতলা, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমনি, আটরা, গিলাতলা, ফুলতলা সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই দেখা যায়, ইফতার বিক্রির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি। ইফতারির আগমুহুর্তে সমান ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষ। হোটেল-রেস্তারার পাশাপাশি খুলনা অধিকাংশ সড়কের পাশে ভ্রাম্যমান ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।
সরেজমিনে, নগরীর বিভিন্ন প্রসিদ্ধ রেস্তারা বা হোটেল সম্মুখ জুড়ে চলতে থাকে রমমারি ইফতার বিক্রি। এ সকল হোটেল-রেস্তারা গুলোতে বেগুনি প্রতি পিচ ৫ টাকা, আলু চপ ৫ টাকা, পেয়াজু ৫ টাকা, ভেজিটেবলরোল ২০ টাকা, চিড়িং চপ ২০ টাকা, ডিম চপ ১০ টাকা, চিকেন ক্রেসপি ৫০ টাকা, শাহী জিলাপী ১০ টাকা, পাটিচাপটা ২০ টাকা, কামমিরি টিকিয়া ৩০ টাকা, রোলমালাইকারি ৩০ টাকা প্রতি পিচ বিক্রি হচ্ছে। একই সাথে ফিরনি প্রতি বাটি ৩০ টাকা, ফ্রুট সালাত ৫০ টাকা, কাবাব প্রতি পিট ১০০ টাকা, রেশমি জিলাপী প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, শাহী জিলাপী প্রতি কেজি ১২০ টাকা, বি.বি.কিউ প্রতি পিচ ১১০ টাকা, বার্গার প্রতি পিচ ৮০ টাকা, ফালুদা ১০০ টাকা, বুন্দিয়া ১৫০ টাকা কেজি, শাহী হালিম হাফ ১৩০ টাকা, ফুল ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হোটেল শামিম এন্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মোঃ আশিকুর রহমান শুভ জানান, বর্তমান প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনী সামগ্রীর দাম উর্ধ্বগতি আকাশ ছোয়া। ইফতারির ব্যবসায় সেই আগের মতো আর লাভ নেই। কিন্তু প্রতিবছর ইফতার তৈরি করে থাকি তাই মূলত ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য ইফতার বিক্রি করছি। গত বছর রোজায় ভাজ্য তেলের দাম ছিল ১০০ টাকার মধ্যে, কিন্তু বর্তমানে তেলের দাম কত? তারপরও লাভ লোকসানের হিসাব পরে করে রকমারি ইফতারি তৈরি করে বিক্রি করছি।
শান্তিধাম মোড়ের ইফতার ব্যবসায়ী সালাম জানান, পার্কের পাশে ভ্রাম্যমান দোকান দিয়ে বসেছি। বাসা থেকে সব কিছু তৈরী করে নিয়ে আসি। দোকানে বসে ভাজি আর কর্মচারি রাখা আছে সে বিক্রি করে। প্রতিদিনই বেগুনি, পেয়াজি, ছোলা, আলুর তিনি জানান, এবারের রমজানে বেচাকেনা ভালো।
দৌলতপুর শামিম হোটেলে ইফতার কিনতে আসা মো. রহমান জানান, ইফতার সামগ্রীর দাম কিছুটা বেশি। তবে বাজার থেকে ইফতার সামগ্রী কেনার মধ্যে অন্য রকম আনন্দ রয়েছে বলেও জানান তিনি। যেমন বাড়িতে পেয়াজু, বেগুনি, ছোলা, চিড়া, মুড়ি পাওয়া যায়। কিন্তু হোটেল রকমারি চিকেন ক্রেসপি, শাহী জিলাপী ,পাটিচাপটা, কামমিরি টিকিয়া, রোলমালাইকারি, ফিরনি, ফ্রুট সালাত, কাবাব, রেশমি জিলাপী, শাহী জিলাপী, হালিম ইত্যাদি পাওয়া যায়।
