বিমল সাহা: বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস কর্মরত মো. আসিফ হাসান (২৪)। অফিসের জরুরী প্রয়োজনে অনলাইনে ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর জন্য গেল মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ছুটে যান নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের ডাচবাংলা ব্যাংকের বুথে। কিন্তু বুথে গিয়ে নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনার শিকার হন। একাধিক বার ব্যর্থতার পর তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন হাসানুল বান্না শান্ত। ব্যাংক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শান্ত’র সহযোগিতায় খুশি হন আসিফ হাসান। কিন্তু মুহূর্তেই কৌশলে নিজ একাউন্টে টাকা ডিপোজিট করে পালিয়ে যায় প্রতারক শান্ত। আকষ্মিক ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন আসিফ। এক পর্যায়ে বন্ধুদের পরামর্শে পুলিশের সহযোগিতা চান। ভুক্তভোগী এ ঘটনায় নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (যার নং-২০৩৬) করেন। কিন্তু নানা তৎপরতার পরও গত তিন দিনেও খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধার হয়নি। উল্টো প্রতারক চক্র নানাভাবে ভুক্তভোগীকে হয়রানি করছে।
শুধু এমন প্রতারণাই নয়, মহানগরী খুলনা ও শহরতলীতে প্রতিদিন চুরি, ছিনতাই, প্রতারণাসহ নানা অপরাধ ঘটলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। এসব ঘটনায় থানা পুলিশে অভিযোগ দিলে শুধু সাধারণ ডায়েরীতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকছে। কোন কোন ক্ষেত্রে উল্টো বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আবার অনেক ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও পারতপক্ষে অভিযোগ করছেন না। ফলে আসন্ন ঈদের আগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধীচক্র। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
৯ এপ্রিল, দিবাগত রাত ২টার দিকে হরিণটানা থানাধীন আরাফাত আবাসিক প্রকল্পের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের্^ দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। জনৈক মো. টুলু খানের ওই দিনই গরু দু’টি কিনে ছিলেন। পরদিন ১০ এপ্রিল তিনি থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। যেহেতু তিনি চুরি সাথে কারা জড়িত জানেন না। তাই তিনি থানায় মামলা করতে পারেননি। তিনি হরিণটানা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
মো. টুলু দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর ওই দিন রাত সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ বাসায় এসে আমাদের ঘুম থেকে ডেকে তোলে। আমরা প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। চুরির বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস না করে থানার সেকেন্ড অফিসার বলেন, এখানে তোমাদের থাকা যাবে না।’
২৫ এপ্রিল, সোমবার। এদিন বিকেলে সোনাডাঙ্গা খা বাড়ি এলাকায় একজন বিকাশ এজেন্টের দোকানে একটি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। চোর দোকানে ভিড় থাকায় কৌশলে মোবাইলটি নিয়ে সটকে পড়ে। ভুক্তভোগী রুহুল খান এবিষয়ে থানায় কোন অভিযোগই করেননি। তিনি বলেন, ‘থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের পেছনে দীর্ঘ সময় ঘুরতে হয়। আর মোবাইলটি পাব কি’না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই পুলিশকে জানাইনি।’
২৩ এপ্রিল, শনিবার। রাতে নগরীর বড় মির্জাপুর ইউসুফ রো’র একটি বাড়িতে গ্রীল কেটে চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নিয়াজুল করিম রাজিবের বাসার আলমারী ভেঙ্গে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার বা চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এঘটনাতে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।
১৯ এপ্রিল, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের সামনে বেলা ১১টার দিকে একটি জৈব সারের গোডাউনে চুরি হয়। কাজী নুরুল ইসলামের ওই গোডাউনের তালা ভেঙ্গে একটি সিসি ক্যামেরা, একটি পানির মোটরসহ তিন লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা।
৭ ফেব্রুয়ারি, সোমবার। আস্থা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে চুরি সংঘটিত হয়। খুলনা থানাধীন তার বাড়ি থেকে ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। দীর্ঘ দুই মাস পরেও কোন মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এঘটনায় প্রথমে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি নগর গোয়েন্দা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এখনও মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
৬ ফেব্রুয়ারি, রবিবার। এদিন রাতে ফুলতলা বাজারের রফিক সড়কের পানবাজার এলাকায় মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স নামক চালের আড়তে চোরের কৌশলে প্রবেশ করে নগদ ৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোঃ,মাসুদুর রহমান ভুঞা জানান, বাংলাদেশের সব জায়গাতেই চুরি হয়। সেক্ষেত্রে জনগনকে সজাগ থাকতে হবে। আর চুরি ঘটনায় অবশ্যই মামলা হতে হবে। সাধারণ ভুক্তভোগীরা অনেক সময় মামলা করতে চান না। সেজন্যই জিডি হয়।
তিনি আরো বলেন, প্রতিটি জিডিই তদন্ত করা হয়। আরও চুরি যাওয়া অধিকাংশ মালামাল পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। দু’একটি ঘটনা এখনও তদন্ত চলছে। পুলিশ সেগুলোও উদ্ধার করতে পারবে।
