ঊষার আলো প্রতিবেদক : চাকুরি হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে দেড় বছর স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকা মোঃ রফিক হোসেন পল (৩২)কে উদ্ধার করেছে র্যাব-৬ সদস্যরা। তাঁর বাবা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার ১৪ নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা। ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সাথেও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। শুধু তাই নয়, বেঁচে থাকার জন্য টোকাই থেকে হকারি এমন কী চায়ের দোকানে কাজ করেছেন।
শনিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোসতাক আহমেদ এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, ২০২০ সালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে করোনার কারণে চাকুরি হারান রফিক হোসেন পল। এতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে ২০২১ সালে আত্মগোপন করেন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ হিসেবে জিডি করা হয় । বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হন। কিন্তু কোন প্রকার আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়ায় উল্লেখিত ব্যক্তিকে গুম করা হয়েছে বা অপহরণ করে মেরে ফেলা হয়েছে বলে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালায়। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুম করার বিভিন্ন অপপ্রচার প্রতিরোধে এবং বিষয়সমূহ খতিয়ে দেখার লক্ষ্যে বিভিন্ন নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে র্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল। এরই অংশ হিসেবে আভিযানিক দলটি গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান-৬ এক একটি দল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, নিখোঁজ ব্যক্তি মোঃ রফিক হোসেন পল স্বেচ্ছায় আত্নগোপন করে কক্সবাজার অবস্থান করছেন। তিনি পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন। শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার শাহিন বীচ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে চলে যাওয়া মোঃ রফিক হোসেন পলকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, স্বেচ্ছায় নিখোঁজ ব্যক্তি করোনা পূর্ববর্তী সময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। করোনার কারণে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে চাকুরী হারানোয় এবং পারিবারিক চাপের কারণে হতাশা থেকে মুক্তির জন্য তিনি স্বেচ্ছায় আত্নগোপন করেন। আত্নগোপনে থাকাকালীন তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখেন। এ সময় তিনি প্রথমে ঢাকায় ৭ মাস মাস্ক বিক্রয় করেন। ঢাকা সদরঘাটে ৩ মাস হকার হিসেবে খেলনা বিক্রয় করেন। মুন্সিগঞ্জে ৯ দিন হকারী করেন। নারায়নগঞ্জে ৫ মাস টোকাই হিসেবে পুরাতন বোতল ও লোহা কুড়িয়ে বিক্রয় করেন ও সর্বশেষে কক্সবাজার শাহিন বীচের ইউনুসের চায়ের টং দোকানে মাসিক ৯হাজার টাকা বেতনে চাকুরী করেন।
উদ্ধারকৃত ব্যক্তিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও র্যাব জানায়।
