UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নগরীতে ঘন-ঘন লোডশেডিং ; ভোগান্তী চরমে

ঊষার আলো
মে ২৯, ২০২১ ৮:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক : নগরীর দৌলতপুরে ঘন-ঘন বিদ্যুতের বিভ্রাটের দেখা দিয়েছে। ঘন-ঘন বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার দরুন অতিষ্ঠ এলাকাবাসীসহ বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। সম্প্রতি কয়েক দফায় বিভিন্ন এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিলনা বলে অভিযোগ করেছে একাধিক গ্রাহকরা।
বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ সূত্র জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস অতিক্রম করে গেলেও এখানে বেশ জোড়ে-সোড়ে বাতাস বইছে , মাঝে-মাঝে বৃষ্টিও নামছে। সাধারণ বৈরী আবহাওয়া বিশেষ করে জোড়ালে বাতাস ছাড়লে এবং বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যবস্থায় ত্রুটি ও ট্রান্সফরমার ওভার লোডেড হওয়ার কারণে বিদ্যুতের বিভ্রাট হলে বিদ্যুৎ বিচ্ছন্ন করা হয়।
ওজোপাডিকোর সূত্র মতে, খুলনায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য চারটি বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে। তাছাড়া গ্রাহক ফিডার, এক্সপ্রেস ফিডার ও বিতরণ লাইনের ট্রান্সফরমার রয়েছে তার ওভার লোডেড ও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির এবং উন্নয়ন কাজের জন্য ঘন-ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বিভ্রাটও বেড়ে যায়।
এলাকবাসী জানায়, গত ৩/৪ দিন বেশ সহনীয় আবহাওয়া বিরাজ করছে, বর্তমানে আগের মতো তীব্র তাপদাহ অনুভব না করলেও বেশ ভ্যাবসা গরম অনুভূত হচ্ছে। তাছাড়া ফ্যান ছাড়া কোন অবস্থাতে বাসার ভেতর থাকা যাচ্ছে না গরমে। শুক্রবার (২৮ মে) দৌলতপুর এলাকায় ঘন-ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে দৌলতপুরে বসবাসরত বাসিন্দাদের তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ না থাকলেও ঘন-ঘন যাওয়ার দরুণ বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসায়ীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কয়েকবার বিদুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। দৌলতপুর কেসিসি মার্কেটের মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের মালিক অনুপ কুমার ঘোষ জানান, আমাদের ব্যবসা চলে বিদ্যুৎ উপর নির্ভর করে। শুক্রবার এমনিতেই কাস্টমার কম থাকে তারপর আবার বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার দরুন বেকার বসে থাকতে হয়েছে। যদিও বিদ্যুৎ তাড়াতাড়ি চলে আসে। তবে ব্যবসায়ীক ক্ষতি হয়েছে।
দেয়ানা উত্তরপাড়ার বাসিন্দা নাসরিন রহমান জানান, সকাল হতে বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। ঘন-ঘন বিদ্যুৎ যাওয়াতে আমার ছোট বাচ্চা গরমে খুব ছটফট করছে। তাছাড়া সামান্য বাতাস ও বৃষ্টিতেও দৌলতপুরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকেনা।
একাধীক সূত্র জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে ফিডারে দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার এবং লাইন ম্যানদের গাফিলতির কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে হয়।
দৌলতপুরে খান রোডের ধান চাল ব্যবসায়ীরা বলেন, এমনিতেই করোনাভাইরাস প্রভাবে কাঙ্খিত কেনাবেচা নেই। তারপর আবার ঘন-ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ায় মিলের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুতের ওপর আমাদের ব্যবসা নির্ভর করে।
এ ব্যাপারে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন, ফল্ট, ট্রান্সফরমারের ফিউজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হওয়ার ফলে কিছুটা বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে গেলেও তার কারণে এখনো জোড়ে সোড়ে বাতাস ও বজ্রবৃষ্টির দরুন বিদ্যুৎদের লাইন শার্ট ডাউন করা হয়, কোন লোডশেডিং ছিলনা বলে জনান এ কর্মকর্তা।

(ঊষার আলো-এমএনএস)