ঊষার আলো রিপোর্ট : রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল চালু, আধুনিকায়ন, বদলী-দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকদের ইনক্রিমেন্ট, ২০২০ সালের ঈদ বোনাসসহ সমুদয় বকেয়া পরিশোধ। নাম ভুলের সমস্যা সংশোধন করে স্থায়ী শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের জন্য আসন্ন বাজেটে অর্থ বরাদ্দের দাবিতে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে শুক্রবার (২৮ মে) বেলা ১১টায় অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘শিল্প রক্ষায় বাজেট ও শ্রমিক রক্ষায় বাজেট’ শীর্ষক আলোচনা সভা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহবায়ক এ্যাড. কুদরত-ই-খুদা এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব এস এ রশীদ।
উক্ত সভায় আলোচনা ও অংশগ্রহণ করেন সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. আ ফ ম মহসীন, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সভাপতি ডা. মনোজ দাশ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. এম এম রুহুল আমীন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক খান, সাধারণ সম্পাদক গাজী নওশের আলী, সিপিবি মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মোঃ বাবুল হাওলাদার, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ জেলা সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সমরেশ রায়, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কাজী দেলোয়ার হোসেন, আনিসুর রহমান মিঠু, নারীনেত্রী সুতপা বেদজ্ঞ, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, গণসংহতি আন্দোলন জেলা নেতা সেলিম বকুল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সভাপতি আব্দুল করীম, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম চন্দন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা সভাপতি কোহিনুর আক্তার কণা, গণসংহতি আন্দোলন জেলা নেতা সেলিম বকুল, ফুলতলা উপজেলা আহবায়ক মোঃ অলিয়ার রহমান, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন জেলা সভাপতি এ্যাড. নিত্যানন্দ ঢালী, মহানগর সভাপতি আফজাল হোসেন রাজু, ছাত্র ফেডারেশন মহানগর আহবায়ক আল আমীন শেখ, শ্রমিকনেতা শামসেদ আলম শমসের, আবদুর রাজ্জাক তালুকদার, শামস শারফিন শ্যামন, জামাল মোল্লা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ৩৫ হাজার বদলী ও দৈনিকভিত্তিক পাটকল শ্রমিকরা এখনো তাদের পাওনা টাকা পায়নি। আসন্ন ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেটে এসব শ্রমিকদের সমুদয় বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সকল পাটকল-চিনিকল রাষ্ট্রীয়ভাবে চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বাজেটে বরাদ্দ দিতে হবে। দেশের শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য জাতীয়ভাবে রেশনিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য জাতীয় বাজেটে বিধান রাখতে হবে। আলোচকবৃন্দ বলেন, পাটকল শ্রমিকরা বিগত ১ বছর ধরে চরম আর্থিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। শ্রমিক পরিবার অর্ধাহারে অনাহারে দিন অতিবাহত করছে। তাদের ঘরে খাবার নেই। সন্তানদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। কর্মহীন শ্রমিক পরিবারের বয়স্ক পিতা-মাতা-সন্তানরা জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও ওষুধ কেনার সামান্যতম সামর্থ নেই। করোনার ভয়াবহতায় বিকল্প কর্মসংস্থান নেই। এক কথায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। আলোচকবৃন্দ শিল্প রক্ষায়, শ্রমিক রক্ষায় এই দাবিনামা বাজেটে গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত না করলে বাজেট অধিবেশন শেষে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন। সভার শুরুতে প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা প্রয়াত লোকমান হাকিমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
(ঊষার আলো-এমএনএস)
