UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি জানে কোথায় তার ঠিকানা?

ঊষার আলো
জুন ৩০, ২০২১ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক : ভারসাম্যহীন লোকটির মুখে দাঁড়ি, জনার্কীন পোশাক আর চুল উল্লো-ঘুল্লো। ঠিক মতো কথা বলতে পারেনা, আপসা আপসা বাধে। বয়সটা আনুমানিক ৪০ বছরের মতো হবে। তাকে কখনো যশোর মহাসড়কের পাশে, কখনো দৌলতপুর থানাধীন বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দেখা যায়, তবে বেশি দেখা যায়, দৌলতপুর, আমতলা, রেলিগেট আর কুলিবাগান সহ থানাধীন বিভিন্নস্থানে। তবে সম্প্রতি সময়ে বেশ সপ্তাহ খানেক সময় ধরে নগরীর ঋষিপাড়া মোড় তার অবস্থান। কেউ জানেনা তার বংশ পরিচয় বা বাসার ঠিকানা, তবে রাস্তায় পড়ে থাকা এই ব্যক্তির হয়তোবা সন্তান, স্ত্রী, মা বাবা আর আত্বীয়-স্বজন আছে। যারা হয়তোবা শত খোজাখুজির পরও তার সন্ধান মেলাতে পারেনি বা মানুষিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি হওয়ার দরুন বাড়তি অশান্তি, বোঝা টানা আর চিকিৎসার বাড়তি ঝামেলার জন্য তার কোন খোজ খবর নেয়া বাদ দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় মানষিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিটির নিকট কেউ যায় না করোনাতংকে ভয়ে। কারণ তার মুখে মাস্ক নেই, নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী আর সাথে জনার্কীন বিবস্ত্র পোশাকে। মানবতা আজ কোথায়? আমাদের নিজের জীবনই আগে। যান্ত্রিক জীবনের এই ব্যস্ততায় যে বিবস্ত্র আর কে বা ভারসাম্যহীন পাগল তা দেখার সময় কি আমাদের হাতে আছে?
বুধবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত। সময়ের ঘড়ির কাটায় রাত প্রায় দেড়টা। ততক্ষনে নগরীর দৌলতপুরস্থ ঋষিপাড়া দোকান গুলো বন্ধ। কিন্তু ততক্ষনে মানষিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিটি দাসপাড়া মন্দিরের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় গায়ে একটি ছেড়া চাদর দিয়ে দেয়ালের সাথে ঝিমাচ্ছে, সমগ্র শরীরে কয়েক শতাধীক মশায় গ্রাস করেছে তাকে। হঠাৎ করে এগিয়ে গেলাম তার সম্মুখে। জিজ্ঞাসা করলাম আপনার নাম কি? কোথায় বাড়ি বা কোথায় থাকেন? প্রতি উত্তর নিঃস্তব্দতা। রাতে খেয়েছেন? উত্তর আপসা ? হাতে তুলে দিলাম নাস্তাও। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে আজ এতো ভারসাম্যহীন মানুষ রাস্তায় কুকুরের পাশে মাথা রেখে ঘুমায় আর ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনা খেয়ে বাঁচে।
ঋষিপাড়া মাষ্টার সুকুমার জানান, আজ প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে ঋষিপাড়া মোড়ে এই ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে সকাল রাত দেখতে পাচ্ছি। ব্যক্তিটিকে যে যা দেয় তাই খেয়ে নেয়ে। ঋষিপাড়া মোড়ের একাধীক ব্যক্তিবর্গ একই কথা বলেছেন। কোথায় তার সন্তানেরা? যাকে শরীরের রক্তঘাম পানি করে মানুষ করেছে? মা-বাবা, ভাই বোন, আত্বীয় স্বজন কোথায়? যারা আজ খোঁজ নিচ্ছে না এই ভারসাম্যহীন ব্যক্তির। আজ এই ভারসাম্যহীন মানুষটি কোথায়? জনার্কীন পোশাক আর নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে কুকুরের পাশে রাত্রিযাপন করছে। হয়তোবা কোন একসময় নরম বিছানায় ঘুমাতে সে, মাথায় উপর ঘুরতো ফ্যান। তার বিবস্ত্র অবস্থা দেখে রাত আড়াই টার দিকে গেলাম বাড়িতে লুঙ্গি আর শার্ট আনতে। যেহেতু বৃষ্টির কারনে ঠান্ডা লাকতে পারে তাই কাঁথাও দিলাম। সাথে মশা নিবারণের গ্লোব ও দিলাম। আজ বুঝি বৃষ্টিতে আর ভিজতে হবে তাই একটি দোকানের মধ্যে বালিশ, চাদর আর কাঁথা দিয়ে গ্লোব জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, আর কতদিন এরকম ভারসাম্যহীন মানুষ গুলো তাদের প্রিয়জন আর আত্মীয়-স্বজনদের ছেড়ে এভাবে রাস্তায় অসহায় হয়ে পড়ে থাকতে হবে, আর ঘুমাতে হবে রাস্তার কুকুকের পাশে মাথা রেখে? জানতে চাই সমাজের বিবেকবান সুধী মহল।
(ঊষার আলো-এমএনএস)