UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুহসিন মোড়ে বেপরোয়া পার্কিং বাড়ছে ভোগান্তি

koushikkln
এপ্রিল ১১, ২০২২ ১১:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক : একদিকে পবিত্র মাহে রমজান, তারপর আবার প্রচন্ড গরমের অনুভব হচ্ছে, এই দুর্বিসহ গরমে হুটহাট করে মুহসিন মোড় সংলগ্নে ইজিবাইক, মাহেন্দ্রা, সিএনজি, ভ্যান-রিক্সার বেপরোয়া পার্কিংয়ে দুর্বিষহ করে তুলছে পথচারী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দাদের।

মহানগরীর দৌলতপুর উপশহরের গুরুত্বপূর্ণ মুহসীন মোড়। খুলনা-যশোর মহাসড়কের এ মোড়কে ঘিরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। যার মধ্যে রয়েছে ১৫০ বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী সরকারি দৌলতপুর মুহসীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দৌলতপুর মুহসীন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মুহসীন মহিলা মহাবিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট, কৃষি প্রশিক্ষন ইনষ্টিটিউট, দৌলতপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স,এতদাঞ্চলের একটি মাত্র গুরুত্ববহণকারী ডাকঘরসহ দৌলতপুরের একমাত্র পাইকারী কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সকল স্থাপনার প্রবেশ একটি মাত্র প্রবেশ পথ হলো মুহসীন মোড় হতে পশ্চিমে যা পুরাতন সাতক্ষীরা রোড নামে পরিচিত। বর্তমানে এই পুরাতন রাস্তাটি আড়ংঘাটা হয়ে সরাসরি বিশ্বরোডে মিলিত হওয়ায় এই রাস্তাটির গুরুত্ব অত্যাধিক বেড়ে গিয়েছে।

পুরাতন সাতক্ষীরা মহাসড়কের এই রাস্তাটি দিয়ে মালবাহী ভারী যানবাহনগুলো সরাসরি বিশ্বরোড হয়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁচ্ছায়। এছাড়া দৌলতপুর এলাকার মানুষের সেবা প্রদান ও আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের চলাচলে এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘদিন এই ব্যস্ততম এই সড়কটির প্রবেশ মুখে এবং খুলনা-যশোর মহাসড়কের দৌলতপুরের মুহসীন মোড়ে যত্রতত্র মাহেন্দ্র, সিএনজি আর ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত গাড়ী পার্কিং উপরোক্ত প্রতিষ্ঠান গুলোসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলকে গতিরোধ্য করে তুলেছে।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এলাকাবাসীর একাধীক অভিযোগ থাকলেও সমাধান মিলছেনা। জনসাধারণের দূর্ভোগ জানা সত্ত্বেও মাহেন্দ্র, সিএনজি ও ইজিবাইকের এ বিশৃঙ্খলহীন ভাবে মোড়টিতে যত্রতত্র গাড়ি পাকিং ও যাত্রী উঠানামা সাধারন পথচারীদের চলাচলে দূর্ভোগ চরমে উঠছে। প্রতিদিনই ভোররাতে প্রত্যন্ত অঞ্চল শাহাপুর, রংপুর, লতাখামার, আড়ংঘাটা, লতাখামার, আমভিটা, থুকড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল হতে খামারীরা তাদের উৎপাদিত কাচাসবজি বিক্রির উদ্দেশ্য করিমন, নছিমন, ভ্যান ও অটোরিক্সায় করে দৌলতপুর কাঁচা বাজারে নিয়ে আসে। আর এ সমস্ত কাচা সবজি ক্রয় করার জন্য ফুলবাড়ী, আটরা, গিলাতলা,পথের বাজার ,কালীবাড়ী, মানিকতলা, যোগীপোল,পাবলা, খালিশপুরসহ স্থানীয় অঞ্চলের লোকজন বাজারে ভিড় জমায়।

মুহসিন মোড় হতে পশ্চিমে বাইবাস লিংক রোড়, দক্ষিণ আর উত্তরে যশোর-ঢাকা মহা সড়ক এবং পূর্বে দৌলতপুর কাচাঁবাজার। বিভিন্ন এলাকা হতে আগত খুচরা-পাইকারী ব্যবসীয়ারা ক্রয় করা কাঁচাসবচি বহনের জন্য পরিবহন তথা মাহেন্দ্র, সিএনজি আর ইজিবাইকে উঠানের জন্য চলে এসকল পরিবহন ড্রাইভারদের মধ্যে চলে প্রতিযোগীতা। কে আগে যাত্রী তুলবে আর তারই জন্য সমগ্র রাস্তা বন্ধ করে যাত্রী তোলার প্রতিযোগীতার নামে। তাদের এ প্রতিযোগীতার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

সরকারি দৌলতপুর মুহসীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)শহিদুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, বিদ্যালয়ে সামনে সর্বক্ষনই ড্রাইভাররা যানবহন আড়াআড়ি করে রাখে। এতে করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি করছি।

ব্যবসায়ী মাসুম বলেন, ব্যবসার মালামাল নিয়ে মুহসীন মোড় দিয়ে ঢোকা যায় না, সর্বক্ষন সমগ্র মোড় আর রাস্তা জুড়ে মাহেন্দ্র, সিএনজিসহ ইজিবাইক দাড়িয়ে থাকে। এত করে বাচ্চাদের নিয়ে চলাচলে দারুন দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
কেএমপি’র ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তাজুল ইসলাম জানান, শহরকে যানজট মুক্ত করতে আমরা নিরালস কাজ করছি। মুহসীন মোড়ে ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, সিএনজি সমগ্র রাস্তাজুড়ে বেপরোয়া পাকিং করে যাত্রী উঠা নামার বিষয়ে অবগত করা হলে উক্ত স্থানটিতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বহাল করে সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।