ঊষার আলো রিপোর্ট : ঈদের পর ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের জন্য বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু আগেই শেষ হয়েছে রংপুরে। অনেক কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে বলে নোটিশ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। আবার অনেকেই টিকেট বিক্রি করছেন না বলেও জানান যাত্রীদের। আবার গোপনে বেশি দরে টিকেট বিক্রি করছেন বলে দাবি অনেক যাত্রীর।অনেক যাত্রীই কাউন্টারে ঘুরে পছন্দমত বাসের টিকিট পাচ্ছেন না।
আজ রবিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে রংপুর কামার পাড়া বাস স্ট্যান্ডে (রংপুর-ঢাকা কোচ) গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। তবে বেশির ভাগ যাত্রী সঠিক সময়ে ঢাকায় যেতে পারবেন না বলে জানান। যাত্রীরা জানান, ঈদের পর ঢাকায় ফিরতে দুভোর্গ ও ভোগান্তিতে পরবেন তারা।
কামার পাড়া কোচ স্ট্যান্ডের শ্যামলী পরিবহন ও এনআর ট্রাভেলস কাউন্টার গিয়ে দেখা গেছে, আগামী ৫ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত ঈদের টিকিট বিক্রি শেষ বলে নোটিশে সাঁটানো আছে। অযথা টিকিটের জন্য সময় নষ্ট না করার কথাও বলছেন কাউন্ডার মাষ্টার।
কাউন্টার মাস্টার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, গত এপ্রিল মাসের ২৫, ২৬, ২৭ ও ২৯ তারিখ রাত ১২ টা পর্যন্ত টিকিট দিয়েছি। এখন টিকিট বিক্রি শেষ। দুই একটা আছে পেছনের দিক লাইনে। কেউ নিতে চাইলে নিতে পারেন। এছাড়া আর টিকিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
নাবিল পরিবহণ কাউন্টার মাস্টার মো. শাকিল আহমেদ জানান, আগামী ৬ তারিখে পেছনে কয়েকটা লা্ইনে সিট আছে। তবে আগামী ৭ মে তারিখের কোন টিকিট নাই, শেষ হয়ে গেছে। সব যাত্রী একসঙ্গে যেতে চায় ঢাকা ও চট্রগ্রামে। আর টিকিট পাবো কই। অন্যদিনের টিকিটও প্রায় বিক্রি শেষের দিকে। তিনি আরও বলেন, বেশি দামে টিকিট বিক্রি করা হয় না। যেটা দাম নির্ধারণ করা সে দামেই বিক্রয় করা হচ্ছে।
এসআর ট্রাভেলসের কাউন্টারে মাস্টার মো. খোকন মিয়া জানান, ঈদের টিকেট ছাড়বো ঈদের পরের দিন সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত। এখনো টিকিট বিক্রি শুরু করি নাই। আমরা টিকিট বিক্রয় করছি না।
ঢাকার যাওয়ার জন্য টিকিট নিতে আসা যাত্রী নেজাম উদ্ধিন জানান, ৫ তারিখের টিকিটের জন্য এসেছি। কিন্তু কাউন্টার মাষ্টার বলেন টিকেট নাই। আবার বলেন পাঁচ তারিখের টিকিট আছে শেষ লাইনে। কিন্তু ঢাকায় যেতে হবে বাসের টিকিট দিতেছে না। এখন অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।
রফিকুল ইসলাম নয়ন নামে একযাত্রী জানান, আমি ঢাকায় একটি সরকারী অফিসে চাকরি করি। ৮-৯ তারিখে চাকরিতে যোগদান করব। ৮-৯ তারিখে যেতে হবে। কেউ তো ৮ তারিখেরে টিকিট দিতে চায় না। তাহলে যাব কেমন করি। অন্য ব্যবস্থা করতে হবে। টিকিট পাই নাই তাই ফিরে যেতে হচ্ছে।
রেল স্টেশন কাউন্ডার মাষ্টার রানা মিয়া জানান, অনলাইনে মানুষ টিকেট নিয়েছে। আর রংপুরে যে বরাদ্দ আছে তা লাইনে ধরিয়ে যাত্রীরা নিচ্ছেন। প্রতিদিন টিকিট কাউন্টার থেকে দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিন ঢাকায় শুধু একটি ট্রেন চলাচল করে। এজন্য টিকিট সংকট দেখা দেয়। অন্যদিকে ট্রেনের টিকিট আগামী ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ তারিখ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি যাত্রীদের।
রংপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ জানান, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি মিলে রংপুর স্ট্যান্ড থেকে ১৭০টি গাড়ি রংপুর থেকে চলাচল করছে। টিকিট নিয়ে কালোবাজারির কোন সুযোগ নাই। আর যদি কেউ করতে চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করা হবে। যাত্রীদের টিকিট নিয়ে হয়রানি করতে দেওয়া হবে না। তবে ৬ ও ৭ তারিখের টিকিট নাই এটা ভুল। হয়তে পিছনে পড়ছে। এজন্য অনেক যাত্রী সেই টিকিট নিতে চায় না। এখন পর্যান্ত টিকিট সব কাউন্টারে আছে।
তিনি বলেন, ঈদে মৌসুমী গাড়ি অনেকগুলো ঢুকে যায় সেগুলো যেন কোন অনিয়ম করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশাসনকে অনুরোধ করব যেন কেউ ভাড়া বেশি নিতে না পারে। সরকারি নির্দেশনাঅনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হবে।
রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, ঈদের ফিরতি যাত্রীরা সঠিকভাবে ঢাকায় যেতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কোনো বাস কাউন্টার যেন কালোবাজারে টিকিট বিক্রয় করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব সময় মোবাইল টিম বাসস্ট্যান্ডে টহল দিচ্ছে। সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন থাকছেন। মানুষ নিরাপদে আবারও ফিরতে পারে এর জন্য শ্রমিক ও বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ ও র্যাবের টহলও থাকবে।
ঊষার আলো-এসএ
