UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজাকারের তালিকা আসছে ডিসেম্বরে

ঊষার আলো
মে ২৯, ২০২১ ১১:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো ডেস্ক : স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও রাষ্ট্রীয়ভাবে চিহ্নিত করা যায়নি স্বাধীনতা বিরোধীদের। তৈরি হয়নি নির্ভুল ও সঠিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা। তবে খুব দ্রুত সঠিক ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের আশ্বাস দেয়া হলেও গত দেড় বছরে থমকে আছে তালিকা প্রণয়নের কাজ। তবে ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা হবে, এমন আশা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের।
১৯৭১ সালে বিজয়ের পরপরই বঙ্গবন্ধু সরকার দালাল আইনে বিচার শুরু করলেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বেকসুর খালাস দেয়া হয় ১১ হাজার যুদ্ধ বন্দিকে। বঙ্গবন্ধু কন্যা টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করে ১০ হাজার ৭৮৯ জন স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশ করা হলেও গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নাম আসায় বিতর্কের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, সঠিক ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের জন্য সময় বেশি লাগছে। এজন্য সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। নির্ভুল তালিকার জন্য প্রতিটি উপজেলায় যুদ্ধকালীন কমান্ডারদের সম্পৃক্ত করা হবে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) তালিকা তৈরি করবে। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা তৈরিতে সময় লাগবে। নির্ভুল তালিকা তৈরির জন্য দেরি হচ্ছে। শাজাহান খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পঞ্চাশ বছরেও রাজাকারের তালিকা না হওয়ায় ক্ষুব্দ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকরা। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় দায় এড়াতে পারে না, এমন মন্তব্য তাদের। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়াজির বইয়ে ৫০ হাজার লোককে রিক্রুট করার কথা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি ‘দ্য বাংলাদেশ কোলাবোরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল) অর্ডার, ১৯৭২’ (দালাল আইন) অনুযায়ী ক্ষমা না পাওয়া ১১ হাজার রাজাকারের নামের তালিকা নিশ্চয়ই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখনো রয়েছে। সবমিলিয়ে ৫০ হাজারের একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকার কথা। ওই নামগুলোর সঙ্গে কিছু নাম সংযোজন করা হলেই হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় করা রাজাকারের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রয়েছে। সেখানে কিছু নাম শুধু যোগ করলেই তালিকা করা সম্ভব। এক্ষেত্রে রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করার চেয়েও রাজাকারের তালিকা করা সহজ।
মুক্তিযোদ্ধার তালিকার মতোই রাজাকারের তালিকা জরুরি মন্তব্য করে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ডা. এম এ হাসান বলেন, প্রতিটি এলাকায় রাজাকারদের নাম টানিয়ে রাখা প্রয়োজন যেন মানুষ জানতে পারে, ওই এলাকায় কারা কারা স্বাধীনতাযুদ্ধে মীর জাফরের ভূমিকায় ছিল। আমরা দীর্ঘদিন রাজাকারের তালিকার জন্য আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসেও রাজাকারের তালিকা না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক।

(ঊষার আলো-এমএনএস)