মো. আশিকুর রহমান : খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে, নির্দিষ্ট মাস্কের দোকান, ভ্রাম্যমান মাস্কের দোকানগুলোতে নানা রঙের, হরেক ডিজাইনের আর রঙ-বেরঙের মাস্কের ছড়াছড়ি। একই সাথে শহর ও শহরে বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার অলিগতিতে এমন কি চায়ের দোকানে হাত বাড়ালেই মিলছে করোনা মোকাবেলার প্রথম ঢাল মাস্ক। দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক বা নিয়ন্ত্রণে আসার দরুণ সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করলে ও অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করে চলাচলের কথা বলেছে। তবে সম্প্রতি সময়ে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসার দরুণ মাস্ক ব্যবহার যেন উধাও! বাজার-ঘাট, যানবাহনে চলাচল, অফিস আদালত, হোটেল রেস্তারাসহ সর্বত্র নগরবাসী ঝুঁকিমুক্তভাবে ইচ্ছা-স্বাধীন অবাদে মাস্কবিহীন চলাচল করেছে।
সরেজমিনে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, যানবহন, অফিস-আদালতসহ বাজারঘাট, পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান সর্বত্র জুড়ে মাস্ক ছাড়াই চলছে অবাদে বিচরণ। বিশেষ নগরীর শিববাড়ী, ডাকবাংলা, পাওয়ার হাউজ, ফেরিঘাট, ময়লাপোতা মোড়, সাতরাস্তা, পিটিআই মোড়, টুটপাড়া কবরখানা মোড়, রূপসা, গল্লামারী, জোড়াগেট, বয়রা, বৈকালী, খালিশপুর, দৌলতপুর, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমনিসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। মাস্ক কেন ব্যবহার করছে না নগরবাসী এই প্রশ্নের উত্তরে মিলছে অজানা সব উত্তর।
এ প্রতিবেদকের কথা হয় অটো চালক হাবিবুলের সাথে। তাঁর মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক না পড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, ভ্যাকসিন নিয়েছি। বর্তমানে করোনারা সংক্রমন তেমন নেই তাই মাস্ক পড়া জরুরী না। তবে মাঝে মধ্যে পড়ি।
কাশিপুর বাসিন্দা আদিত্য জানান, মাস্ক অবশ্যই পড়া উচিত। শিক্ষিত মানুষ হিসাবে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে অবশ্যই চলা উচিত। দিনের বেশির ভাগ সময়ই মাস্ক পড়ে থাকি, মেনে চলি শারিরীক দূরত্বও। তবে দীর্ঘক্ষণ মাস্ক পড়ে থাকলে কেমন যেন নিঃশ্বাসে কষ্ট হয় আর দম বন্ধ হয়ে আসে।
সাবেক কাউন্সিলর শেখ হুমায়ূন কবির জানান, বর্তমানে খুলনায় করোনা আক্রান্তের হার কমে গেছে, আমরা হুজোকে বাঙালি, যখন বিপদ আসে তখন খুবই সচেতন, বিপদ কেটে গেলে বালাই নেই। করোনা বর্তমানে নিয়ন্ত্রনে, তবে যে কোন সময়ই নতুন ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমন বাড়াতে পারে, তাই সকলের মাস্ক পড়া উচিত বলে আমি মনে করি। সকলের উচিত তার নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য মাস্ক ব্যবহার করা।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নেতা শাহিন জামাল পণ জানান, মাস্ক ব্যবহারে কঠোর আইন করে বা জরিমানা দিয়ে জনগণকে বাধ্য করা সম্ভব না বরং এর জন্য নিজেদের সচেতনতার বিকল্প নেই। অবশ্যই স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
