UsharAlo logo
, |

খুবিতে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

ঊষার আলো ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাঙালির সকল স্বাধিকার আন্দোলনে প্রেরণার উৎস একুশে ফেব্রুয়ারি

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়-এ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে প্রশাসনিক ভবন থেকে প্রভাতফেরী বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এসময় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্য জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং উপ-উপাচার্য কালো পতাকা উত্তোলন করেন।

বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারি ব্রজলাল কলেজ-এর প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান (বাংলা) প্রফেসর মো. আব্দুল মান্নান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালিকে শিখিয়েছে মাথা নত না করতে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এ দিনটি সাহস ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশে বাংলা ভাষাকে ঘিরে আয়োজন দেখলে গর্ব হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার বৈষম্যহীন, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সফল হবে।

বিশেষ অতিথি ট্রেজারার বলেন, ভাষা কেবল শব্দের সমষ্টি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনুভূতি ও স্বকীয়তা। ভাষা আন্দোলন ছিল আত্মপরিচয় রক্ষার সংগ্রাম। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ’২৪-এর আন্দোলনেও বাংলা ভাষা ছিল শক্তির উৎস। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মুখ্য আলোচক বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে বেদনা ও গৌরবের দিন। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত রাষ্ট্রভাষা বাংলা আমাদের ন্যায় ও সত্যের পথে চলার প্রেরণা জুগিয়েছে। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ’২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান—সবকিছুর পেছনে ছিল একুশের চেতনা।

সভার শুরুতে ’৫২-এর ভাষা শহিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও আবু সাঈদসহ সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আজমল হুদা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের মো. রেজোয়ানুল হক রাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালক কানিজ ফাতেমা।

সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও প্রশাসন ভবন সংলগ্ন মসজিদে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।

ঊআ-রহমাতুল্লাহ